দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'চায়ে পে চর্চা' কথাটা তো বহু প্রচলিত। কিন্তু সে চর্চা যদি হয় চপ নিয়ে, তাহলে তাকে তো 'চপ পে চর্চা' বলাই যায়! এই চর্চার শুরু আজ নয়, সেই ৩৫ বছর আগে। পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল বাজারে কিশোরী মান্না ছোট একটা চালাঘরে তেলেভাজার দোকান দিয়েছিলেন। সেই যে শুরু, আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। সে চর্চা আজও চলছে সমানতালে, বরং আরও জোর বেড়েছে তার।
বলাই বাহুল্য, সেই প্রথমকার দিনগুলোয় এখনকার মতো এত বৈচিত্র্যপূর্ণ চপ ছিল না। তখন শুধু আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজি-- এই সবই ছিল। গ্রামের দোকানে যা হয় আর কী। এই নিয়েই ছিল কিশোরী মান্নার দোকান। আজ সেই কিশোরী মান্নার চালাঘর ভেঙে উঠেছে পাকা বিল্ডিং! সেখানেই তেলেভাজার দোকান।
শুধু তাই নয়, এখন আর শুধু আলুর চপ আর বেগুনিতে সীমাবদ্ধ নেই চপের পসরা। বিকেল হলেই সেখানে শুরু হয় সয়াবিনের চপ, মাংসের চপ, পটলের চপ, চিংড়ি চপ, মোচার চপ, ভেজিটেবল চপের নানা ভ্যারাইটি। সেই সঙ্গেই থাকে আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজিও।
কিশোরী মান্নার ছেলে সন্তোষ মান্নাই এখন দোকান সামলান। তিনি জানান, বিকেলে দু'ঘন্টার ব্যবসা। তবে দুপুরে ভাত খাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় কাজ। আলু সেদ্ধ করা, মশলা তৈরি করা, পটল, বেগুন, পেঁয়াজ কেটে রেডি করা-- একের পর এক চলতে থাকে। এর পরে ঠিক বিকেল পাঁচটায় গরম তেলের কড়াইয়ে চপ ছাড়া শুরু হয়। চপ ভাজা শুরু হতেই শুরু হয়ে যায় খদ্দেরদের আনাগোনাও। বেগুনি, আলুর চপ, পেঁয়াজির দাম পাঁচ টাকা। আর বাকি সব আট টাকা। সয়াবিন, মাংস, মোচা, চিংড়ি, পটল-- সব চপই মেলে আট টাকায়।
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=_uxZrR7g69A
সন্তোষ মান্না জানান, লকডাউনে তাঁদের ব্যবসা বেশ মার খেয়েছে। কোভিড বিধি ও লকডাউনের জন্য দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছিল অনেকদিন। এখন অবশ্য ফের খুলেছে। তবে বিক্রিবাটা একেবারই কমে গেছে। এখন রোজ গড়ে চল্লিশ কেজি আলু লাগে। আগে এর ডবল আলু লাগত। এখন যেটুকু বিক্রি, তাতে বেশি চাহিদা সয়াবিন, মোচা আর চিংড়ির চপের।
তবে বিক্রি কমলেও, বড়শুলের বাইরে মেমারি, শক্তিগড়, রসুলপুর এমনকি খোদ বর্ধমান শহর থেকেও বহু মানুষজন চপের টানে কিশোরী মান্নার দোকানে আজও ভিড় জমায়।