দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোনা চিরকালই দামি, বিয়ের সেরা উপহার বলতে এখন সোনাকেই বোঝায়। তবে দামবৃদ্ধির নিরিখে সোনাকে এখন টপকে গেছে পেঁয়াজ। তা বলে বিয়ের উপহার! সত্যি। বিয়েতে এমন উপহার দেখে বর-কনে তো হেসেই অস্থির।
রীতিমত দাপিয়ে ব্যাটিং করে চলেছে পেঁয়াজ। সেঞ্চুরির পর এখন সে দেড়শোর পথে। ঝাঁঝে নয়, দামেই চোখে জল আসছে বাঙালির হেঁসেলে। এবার এক বিয়ের অনুষ্ঠানে উপহার হিসাবে দেওয়া হল পেঁয়াজ। বর্ধমান শহরের রাজগঞ্জের সঙ্গীতা কুণ্ডুর সঙ্গে চারহাত এক হল শহরেরই আলমগঞ্জের শুভম রায়ের। বিয়ের অনুষ্ঠান হয় দিঘিরপুলে একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে। বিয়েতে পাত্রীর বন্ধুদের মধ্যে এসেছিলেন পূজা রাজবংশী, কপিল কুণ্ডু, ভোলানাথ রাজবংশী প্রমুখ। গায়ে হলুদের পরে তাঁরা ঢুকলেন ঝুড়ি হাতে, তাতে ভর্তি লাল রঙের পেঁয়াজ, দু’-চার কেজি নয়, একেবারে তিরিশ কেজি।
এমন উপহারের জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। উপহার দেখে প্রথমে তাঁরা অবাক। তারপরে সঙ্গীতার হাসি দেখে কে!
পূজা, কপিলরা কেন এমন উপহার দিলেন? এমন ভাবনাই বা কী করে এল? পূজা বলেন, “পেঁয়াজ এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। সোনার দরে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তাই এখন বিয়েবাড়িতে এর চেয়ে ভাল উপহার আর কী হতে পারে?” কপিল বলেন, “সব দিক বিবেচনা করেই আমরা ঠিক করি বিয়েতে পেঁয়াজ দেব। তাতে উপহারের মধ্যে একটা চমক থাকবে। বিয়ের পরে ক’টা দিন অন্তত পেঁয়াজ নিয়ে ভাবতে হবে না নবদম্পতিকে।”
এমন উপহার পেয়ে পাত্রী সঙ্গীতা কুণ্ডু বলেন, “সোশ্যাল সাইটে এই ধরণের ঘটনা দেখতাম। কিন্তু রিয়েল লাইফে এই ঘটনার সাক্ষী হব, স্বপ্নেও ভাবিনি।” বিয়ে করতে এসে পাত্র শুভমও জানতে পারেন স্ত্রীর বন্ধুদের এমন উপহারের কথা। সব শুনে তিনি বেশ মজাই পেয়েছেন। তিনি বলেন, “এত পরিমাণ দামি জিনিস কী ভাবে ঘরে রাখা যায়, সেটাই চিন্তা। সোশ্যাল সাইটগুলিতে তো এখন পেঁয়াজ-টম্যাটো নিয়ে ট্রোল হচ্ছে।”এ বছর জমি থেকে পেঁয়াজ ওঠার সময় দাম ছিল না। আড়াইশো টাকা দরে এক বস্তা (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই জুন জুলাইয়ের পর বাজারে পেঁয়াজের দাম চড়তে থাকে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে বাড়তে তা এখন দেড়শোর পথে। মঙ্গলবার বর্ধমানের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কিলোদরে। পেঁয়াজের দাম লাগাম ছাড়া বেড়ে চলায় গৃহস্থের পকেটে টান পড়ছে। সমস্যায় পড়ছেন মধ্যবিত্তরা। পেঁয়াজের ঝাঁঝে অস্থির বিরোধীরা, বিব্রত সরকার।