দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: এক মহিলাকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠল মেদিনীপুর শহর লাগোয়া কোতোয়ালি থানার অন্তর্গত খয়রুল চকে। কেটে দেওয়া হয়েছে মাথার চুল। এখানেই শেষ নয়, পোড়া মোবিল গায়ে ঢেলে তাঁকে পুড়িয়ে মারারও চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় এক বিজেপি নেতার সাহায্যে কোনও মতে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে মেদিনীপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে খয়রুল চকে আত্মঘাতী হন সুভাষ ঘোষ নামে এক ব্যক্তি। তাঁর সঙ্গে ওই নির্যাতিতা মহিলার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। এই নিয়ে নিত্য অশান্তি লেগেছিল সুভাষবাবুর পরিবারে। এ দিন ঘরের মধ্যে সুভাষবাবুর ঝুলন্ত দেহ মিলতেই পড়শিরা ওই মহিলার উপর চড়াও হন। নির্যাতিতা মহিলার স্বামী পেশায় রঙমিস্ত্রী। বাইরে থাকেন। অভিযোগ, এ দিন দুপুরে ছোট মেয়েকে নিয়ে ঘরে ছিলেন ওই মহিলারা। তখন পড়শিরা এসে তাঁকে রাস্তায় নামিয়ে এনে বিবস্ত্র করে মারধর করতে শুরু করে । তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়। গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সময় কোনও মতে তাঁকে উদ্ধার করেন এলাকারই কয়েকজন। নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তবে এখনও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। গোটা গ্রামজুড়ে প্রবল উত্তেজনা রয়েছে।
আত্মঘাতী সুভাষবাবুর দিদি কৃষ্ণা ঘোষ জানিয়েছেন, নির্যাতিতা মহিলাকে নিয়ে তাঁর ভাইয়ের পরিবারে যে অশান্তি চলতো, এ কথা তিনি জানতেন। এ দিন তাই ভাইয়ের দেহ মেলায় উত্তেজিত হয়ে ওঠেন গ্রামের লোক। মহিলার স্বামী বাইরে থাকায় এখনও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়নি। মহিলার উপর নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।