দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ভয় বাড়ছে মহারাষ্ট্রে। মঙ্গলবার অবধি ভারতে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ১১৪ জন। রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষেই মহারাষ্ট্র। কেন্দ্রের হিসেবে, সেখানে মারণ ভাইরাসে সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জন। আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে এবার তিন বছরের এক শিশুকন্যার শরীরে মিলল করোনাভাইরাসের খোঁজ। ভাইরাস আক্রান্ত তার মা, বাবাও। তিনজনকে রাখা হয়েছে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট বলছে, শিশুটির বাবা আমেরিকা থেকে ফেরার পরই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। গত ১৪ মার্চ তাঁর শরীরে ভাইরাসের খোঁজ মেলে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের অনুমান, বিদেশ থেকে সংক্রমণ নিয়েই দেশে ফিরেছিলেন তিনি। ওই ব্যক্তির সঙ্গেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তাঁর স্ত্রী ও তিন বছরের মেয়ের। দু’জনের শরীরেই সংক্রমণের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। তাদের দেহরসের নমুনা পাঠানো হয়েছিল ঠাণের ল্যাবোরেটরিতে। গত ১৬ মার্চ সেই রিপোর্টে দেখা যায় দু’জনের শরীরেই সিওভিডি ১৯ পজিটিভ। শিশুটিকে তার মায়ের থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
মুম্বইতে আজ করোনা সংক্রমণে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর মিলেছে। জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের বয়স ৬৪ বছর। মুম্বইয়ের কস্তুরবা হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মহারাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্তের খোঁজ মেলে ৯ মার্চ। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার নতুন ছ’জনের শরীরে ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। প্রাথমিকভাবে, গোটা রাজ্যে মোট ৭৯৪ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৭১৭ জনের শরীরেই ভাইরাসের খোঁজ মেলেনি। ১০৮ জন এখনও রাজ্যের নানা জায়গায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি। নিজেজের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে অন্তত ৬২১ জন।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় চূড়ান্ত সতরক্তা জারি হয়েছে রাজ্যে। বন্ধ স্কুল-কলেজ, সিনেমা হল-রেস্তোরাঁ, জিম, নাইট ক্লাব। বলিউডে সমস্ত শুটিং বন্ধ। পর্যটকের ভিড়ে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা রুখতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে মুম্বই পুলিশ।
করোনা আতঙ্কের মধ্যেই মুম্বইয়ের একটি হাসপাতাল তেকে সংক্রমণের সন্দেহে ভর্তি থাকা ১১ জন পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে খবর মেলে। এই ঘটনার পরে রোগীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের পাশাপাশি প্রশ্ন ওঠে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়েও। নিরাপত্তার স্বার্থে তাই কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের বাঁ হাতে কালির ছাপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী বলেছেন, যারা পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে ওই রোগ। তাঁদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ। এরপরে কেউ পালালে যাতে সহজে চেনা যায়, সেজন্য তাঁদের বাঁ হাতে কালির ছাপ দেওয়া হবে।