নারদা-কাণ্ডে এবার ইডি-র নোটিস পৌঁছল তৃণমূলের তিন নেতার ঘরে। সূত্রের খবর, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে দেওয়া হয়েছে এই নোটিস। যদিও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি কোনও নোটিস পাননি। ফিরহাদ হাকিমকে ফোন করা হলে তাঁর ফোন বেজে যায়, যোগাযোগ করা যায়নি মদন মিত্রের সঙ্গে।
সূত্রের খবর, ওই তিন নেতার আয়-ব্যয়ের হিসেব চেয়েছে ইডি। ২০০৮ থেকে তাদের আয়কর রিটার্ন ও সম্পত্তির খতিয়ান মিলিয়ে দেখাই উদ্দেশ্য। অনেকের সন্দেহ, আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
২০১৬ সালে নারদা নিউজ ডট কম নামের একটি সংবাদ মাধ্যম আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই চ্যানেলের স্টিং অপারেশনে দেখা যায় যে, তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রীরা ও কিছু পুলিশ অফিসার টাকা নিচ্ছেন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তথা দেশজুড়ে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়। পরে সিবিআই, এনফর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দফায় দফায় জেরা চলে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নারদ স্টিং অপারেশন কাণ্ডে প্রথম গ্রেফতার হন সিনিয়র আইপিএস অফিসার এসএমএইচ মির্জা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়া একমাত্র পুলিশ কর্তা এসএমএইচ মির্জার বিরুদ্ধে স্টিং অপারেশন চালিয়েছিলেন নারদা পোর্টালের সাংবাদিক ম্যাথু। পরে একটি ফুটেজে দেখা গিয়েছিল, নিজের বাংলোর বৈঠকখানায় বসে লুকোনো ক্যামেরার সামনে টাকা নিচ্ছেন মির্জা। প্রসঙ্গত, মির্জা শাসক দলের শীর্ষ স্তরের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, নারদ কাণ্ডে অভিযুক্ত তৃণমূলের সব সাংসদ ও মন্ত্রীর ভয়েস স্যাম্পেল ইতিমধ্যেই নিয়ে নিয়েছে সিবিআই। গত বছরই একে একে সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রমুখ নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে গিয়ে ভয়েস স্যাম্পেল দিয়ে এসেছেন।
এর পরে এ বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ইডির তরফ থেকে নারদা কাণ্ডে জড়িত বেশকিছু তৃণমূল নেতা নেত্রীর কাছে নোটিস গিয়েছিল। তাঁদের ব্যাঙ্ক ডিটেলস এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জমা করতে বলা হয়েছিল ইডির কাছে।
জানা গিয়েছে, এবার আবার নোটিস গেল তিন নেতার কাছে। সূত্রের আরও খবর, নারদা-কাণ্ডের সঙ্গে আরও যাঁরা যুক্ত, ভিডিও ফুটেজে যাঁদের দেখা গিয়েছিল তাঁদের সকলকেই এই একই নোটিস পাঠানো হবে।