
শেষ আপডেট: 28 December 2018 13:10
সেই ইকো সেন্টারই প্রায় দু’বছর ধরে তালাবন্ধ থাকায় তা এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। পুরো এলাকাই ঢেকে গেছে ঝোপ ঝাড়ে। পরে থেকে নষ্ট হচ্ছে সুসজ্জিত ১০ টি ইকো রিসর্টের দামী আসবাবপত্র। নষ্ট হচ্ছে রিসর্টের সামনে থাকা ওয়াচটাওয়ার ও শিশু উদ্যানের খেলার সামগ্রী। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে সাপের খোলস।
ইকো সেন্টারের কর্মী কৈলাশ রায় জানান, ইকো সেন্টারটি চালু থাকার সময় প্রচুর মানুষ আসতেন। কিন্তু বর্তমানে এটি বন্ধ থাকায় অনেক পর্যটক এসেও ফিরে যান। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জঙ্গলে মুখ ঢেকেছে ইকো রিসর্টের। সাপখোপ ও নানা পোকামাকড়ের আস্তানা হয়ে গিয়েছে পুরো এলাকাটি। এই ইকো সেন্টার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে গজলডোবা ভোরের আলো। তিনি বলেন, ‘‘ভোরের আলো উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই প্রচুর পর্যটক এখানে এসে ভিড় জমান, কিন্তু নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁদের। গ্রামের মানুষ সহ আমরা সবাই চাই সেন্টারটি পুনরায় চালু হোক।’’
তবে বৈকুণ্ঠপুর ইকো সেন্টার যে বন্ধ তা জানতেনই না বিধায়ক খগেশ্বর রায়। খবর শুনে অবাক বিধায়ক বললেন, ‘‘এ কথা ঠিক যে ২০১১ সালে ফরেস্ট ডেভলাপমেন্ট কর্পোরেশনের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম আমি। এখানে পর্যটন বিকাশের স্বার্থে এই বোদাগঞ্জ ইকো ট্যুরিজম সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছিল। চালুও করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বন্ধ কেন তা আমার জানা নেই। আমি বর্তমান চেয়ারম্যান উদয়ন গুহর সঙ্গে অবশ্যই কথা বলে ট্যুরিজম সেন্টারটি টিভি পুনরায় চালু করা হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’’
বৈকন্ঠপুর ইকো রিসর্ট যে বন্ধ তা জানেন বন উন্নয়ন নিগমের বর্তমান চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁর সোজা সাপটা উত্তর, ‘‘এটি একটি ব্যাড ইনভেস্টমেন্ট। এখানে শীতকালে কিছু পর্যটক ছাড়া আর কেউ যেত না। তাই বন্ধ আছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে এই রিসর্টকে বৈকন্ঠপুর ডিভিশানের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’’