দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: বিয়েতে সায় দেয়নি। তাই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে মোটরবাইকে পিষে মারার অভিযোগ উঠল পাঁশকুড়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে। হাড় হিম করা এই ঘটনায় বাক্যহারা ওই ছাত্রীর পরিবার। স্তম্ভিত এলাকার মানুষও।
ছাত্রীর নাম প্রেরণা মাইতি (১৭)। অভিযোগ, আজ পাঁশকুড়া রেল গেটের কাছে মোটরবাইকে থাকা দুই যুবক ওই ছাত্রীর চুলের মুঠি ধরে হ্যাঁচকা টান মেরে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর মোটরবাইক দিয়ে পিষে দেয়। মাথায় ও পেটে গুরুতর চোট পায় প্রেরণা। তমলুক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রেরণার মা শ্যামলী মাইতির অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে, পাঁশকুড়া থানার চৈতন্যপুরের বাসিন্দা সমীর সাহু তাঁর মেয়েকে নানাভাবে বিরক্ত করছিল। তাঁরা পাঁশকুড়া থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। পুলিশের মধ্যস্থতায় তখনকার মতো বিষয়টি মিটে যায়। এরপর গতকাল সমীরের বাবা ক্ষুদিরাম সাহু তাঁদের বাড়িতে এসে প্রেরণার সঙ্গে তাঁর ছেলের বিয়ের প্রস্তাব দেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় ওই ছাত্রীর পরিবার। প্রেরণাও ক্ষুদিরামবাবুর মুখের উপর সরাসরি না বলে দেয়।
আজ সকালে খাতা পেন ইত্যাদি কিনতে পাঁশকুড়া বাজারে গিয়েছিল প্রেরণা। তাঁর এক আত্মীয় অভিজিৎ দাস জানান, প্রেরণাকে তিনি লেখাপড়ার জিনিসপত্র কিনে দিয়ে বাড়ি যেতে বলেন। প্রেরণা বাড়ির দিকে রওনা দিলে রাস্তায় ওত পেতে থাকা দুই যুবক বাইক নিয়ে তার কাছে এসে তাকে প্রথমে টান মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়, পরে তার গায়ের উপর দিয়ে বাইক চালিয়ে দেয়। স্থানীয় মানুষজন চিৎকার শুরু করলে চম্পট দেয় দুই যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারাই বাড়ীর লোকজনকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানান্তরিত করা হয় তমলুক জেলা হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পাঁশকুড়া পুরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের মধুসূদনবাড়ে শোকের ছায়া নেমেছে।
জেলার এসপি ভি সোলেমান নেশা কুমার জানান, এখনও ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। কারণ হাসপাতালে ব্যস্ত রয়েছেন পরিবারের লোকজন। তবে মৌখিকভাবে তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। থানাতেও জানানো হয়েছে। এর ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।