
শেষ আপডেট: 28 September 2018 08:06
সেই রীতি মেনে আজও শ্রাবণ মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে ময়না কাঠের পুজো হয় বিশেষ রীতি মেনে। এই পুজোকেই বলা হয় যূপোচ্ছেদন পুজো। এরপর সাড়ম্বরে শোভাযাত্রা করে সেই ময়নাকাঠ পাল্কিতে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রাজাদের কুলদেবতা মদনমোহন মন্দিরে। এক মাস সেখানে পুজোর পর রাধা অষ্টমী তিথিতে তা আবার ফিরিয়ে আনা হয় বড়দেবীর মন্দিরে। এরপর তৈরি হয় প্রতিমা। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় দেবীর।
বিশ্বসিংহের পুত্র নরনারায়ণ যাঁর রাজত্বকাল ১৫৫৪ থেকে ১৫৮৭ সাল পর্যন্ত, কথিত রয়েছে তিনিই নাকি দশভুজা দুর্গা মূর্তি পূজার প্রচলন করেছিলেন । মহারাজা নরনারায়ণ এর স্বপ্নে পাওয়া দেবীর রূপ অনুযায়ী তৈরি হয় বড়দেবী। দুর্গার চিরাচরিত রূপ নয়, এখানে বড়দেবী রক্তবর্ণা। অসুরের পা দেবীর বাহন সিংহের গ্রাসে। আর হাত রয়েছে বাঘের মুখে। দুর্গামূর্তির পাশে লক্ষ্মী, কার্তিক, গণেশ, সরস্বতীর বদলে বড়দেবীর পাশে দুই সখী জয়া-বিজয়া।
একসময় নরবলি চালু থাকলেও ১৮৪৭ সালে কোচবিহারের ১৯ তম মহারাজা নরেন্দ্র নারায়ণ, পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ধ করে দেন নরবলি। কিন্তু দেবীর কোপে পড়ার শঙ্কায় আজও মহাষ্টমী ও মহা নবমীর সন্ধিলগ্নে বড়দেবীর মন্দিরের গুপ্তপুজোয় রাজপরিবারের প্রতিনিধির আঙুল ছেদ করা রক্ত সমর্পণ করা হয় দেবীকে।
রাজা নেই। নেই রাজত্বও। কিন্তু ঐতিহ্য মেনে আড়ম্বরের সঙ্গে এখনও পুজো হয় বড়দেবীর। রাজ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজ আমলের দুয়ারবক্সী অমিয়কুমার দুয়ারবক্সী। বড়দেবীকে দর্শন করে তবেই কোচবিহারের মানুষ বের হন অন্য প্রতিমা দর্শনে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয় অসম থেকেও বহু মানুষ আসেন বড়দেবীর আকর্ষণে। ভক্তি আর বিশ্বাসের সেই আবহে এখনও ছোঁয়া লাগেনি চটকদারিত্বের।