
শেষ আপডেট: 28 June 2019 11:23
নদীর পাড় সংলগ্ন ৮৪ টি গ্রামের মানুষদের জীবন জীবিকা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন তাঁরা। প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৪ কিলোমিটার পথ হাঁটছেন এই ছাত্র-যুবরা। ইতিমধ্যেই ৪০ টি গ্রামের মানুষদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ফেলেছেন। একসময় ইছামতীকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বসতি। নদীর জলে চাষ, নদীর মাছে জীবিকা নির্বাহ করতেন দু পাড়ের বাসিন্দারা। এ নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে, রবীন্দ্রনাথ, বিভূতিভূষণের স্মৃতিও। শোনা যায় ইছামতীতে ডুব দিয়ে দিন শুরু হত ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মাজদিয়া থেকে বনগাঁ পর্যন্ত সে নদীতে ছিল মিঠে জল, আর বনগাঁ থেকে সুন্দরবন- জলের স্বাদ নোনা।
সেই ইছামতীই এখন মজে গিয়ে কোথাও মাঠ, কোথাও ঝোপ। মিষ্টিজল এলাকার উৎসমুখ কৃষ্ণগঞ্জ থেকে ভাজনঘাট পর্যন্ত নদী মৃতপ্রায়। দত্তফুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নারায়ণপুর গ্রাম থেকে আইসমালি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব নগর গ্রাম পর্যন্ত নদী মুখ ঢেকেছে কচুরিপানায়। বাকি অংশেও স্বচ্ছ জলধারা কেবলই স্মৃতিচারণে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী একদমই নেই। নদীর মৃতপ্রায় অবস্থায় মাটির নীচে জলস্তর ক্রমশই নেমে যাচ্ছে। একসময় এই নদীতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন আর সেই রকম মাছ মেলে না। তাই মৎস্যজীবীরাও পেশা ছেড়ে অন্য পেশায়। নদীর মতোই হারিয়ে যাচ্ছে দুপাশের বসতির ছন্দ।
সব মিলিয়েই তাই ইছামতী সংস্কারের দাবি। জানালেন, পদযাত্রায় সামিল হওয়া সাবর্ণ সরস্বতী। বললেন, “নদীর পাড়ের মানুষদের জীবন-জীবিকার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের নদী সংক্রান্ত দফতরের কাছে তুলে ধরব। আমরা চাই নদীটা বেঁচে যাক।”