দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: বহুদিন পরে আবার সেই পুরনো কলেজ হল্টের ঠেকে। ঘিরে থাকা নিরাপত্তা রক্ষী, কাঁচ তোলা গাড়ি, সবকিছুকে দুরে সরিয়ে রেখে। মঙ্গলবার দুপুরে এক নিমেষে যেন সেই চেনা গুটিস দা তে ফিরে গেলেন সৌরভ চক্রবর্তী। আলুভাজা আর আমের সরবত খেতে খেতে চলল দেদার আড্ডা। এই আড্ডার ফাঁকেই অবশ্য চলছিল মানুষের কাছে ভুল স্বীকারের পর্ব।
আলিপুরদুয়ার শহরের ছেলে সৌরভ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছেন কলকাতায়। দীর্ঘদিন ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি ছিলেন। ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদেরও সভাপতিও। পরে দলনেত্রীর নির্দেশে ফের ফিরে যান আলিপুরদুয়ারে। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক হওয়ার পর একে একে বিভিন্ন সরকারি পদপ্রাপ্তি। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতি ও জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদও পান সৌরভ। এরপরেই যে শহরে তিনি বড় হয়েছেন সেই আলিপুরদুয়ারেক চেনা গুটিস আস্তে আস্তে ঢুকে পড়েন নিরাপত্তা রক্ষীদের বেষ্টনীতে। সরকারি গাড়ির কাচের আড়ালে।
গোটা রাজ্যের মতো এ বারের লোকসভা ভোটের ফলে তৃণমূলের বিপর্যয় হয়েছে আলিপুরদুয়ারেও। বিজেপি প্রার্থী জন বার্লা ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৯৮৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের প্রার্থী দশরথ তিরকেকে। আর আলিপুরদুয়ার বিধানসভা এলাকাতে এই ভোটের ব্যবধান ৩৭ হাজার ২০। ভোটের ফল বেরোনোর চারদিনের মধ্যে শহরের বৃহত্তম আড্ডার ঠেকে এসে জনসংযোগ করলেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ। বললেন, , “এটা ঠিক, অনেক জায়গাতে ইভিএমের কারচুপি হয়েছে। জয়ী হওয়ার পর অনেক জায়গায় বিজেপি সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে। এই সবকিছুর নিন্দা করছি। কিন্তু আমি আবার মাথা নত করে মানুষের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার ও আমার দলের কোন ভুল হলে মানুষ যেন ক্ষমা করেন। এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে।”
কলেজ হল্টের সেই আড্ডাতেই বসে ছিলেন আইএনটিটিইউসির আলিপুরদুয়ার টাউন ব্লকের সভাপতি মনোজ নন্দী। তিনি বললেন, “গুটিস গণ সংগঠক। একমাত্র ও চাইলেই আলিপুরদুয়ারে রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবে। যে ভুলটা ওঁর পক্ষে বোঝা সম্ভব হয়েছে, সেটা অনেকে বুঝতেই পারবেন না। এই ঘটনায় ছোট হওয়ার কিছুই নেই।”
তবে বিজেপি অবশ্য মনে করছে এ সব নেহাতই নাটক। এখন প্যাঁচে পড়ে গিয়ে এ সব করছে। আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, “মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের এই নাটক ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন। সেই কারণে এই সব দেখানেপনায় মানুষ আর ভুলবে না।”