
শেষ আপডেট: 27 December 2018 07:07
পুরোনো সেই দিনের কথা মনে করে স্মৃতিতে ডুব দিলেন বর্ষীয়ান সিপিএম কর্মী সমর্থকরা। হ্যাঁ, এমনটাই তো ছিল দিন। সত্তরের দশকে বা আশির দশকের গোড়ায় কোনও কর্মসূচি থাকলেই তো ‘কমরেডদের’ জন্য এ ভাবেই রাত জেগে মা মাসি দিদি বোনেরা তৈরি করতেন রুটি। পরে তা দিয়ে পেট ভরিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিতেন তাঁরা। কৃষিঋণ মুকুব সহ একাধিক দাবিতে আজ উত্তরকন্যায় লংমার্চ কর্মসূচি সিপিএমের। বুধবার রাত থেকেই মহানন্দা সেতু সংলগ্ন লালমোহন মৌলিক ঘাটের পাশে শিবিরে দলের কর্মী সমর্থকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। রাত থেকে চলছে তরকারি কাটা আর রান্নার পালা। আর রুটি করার ভার ছিল ঘরণীদের উপর।
শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র পারিষদ শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘৬০ হাজার রুটি সংগ্রহ আমাদের টার্গেট ছিল। কিন্তু সংগ্রহ হয়েছে এক লক্ষেরও বেশি রুটি। এতেই বোঝা যাচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য সফল। আসলে খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি মানুষকে এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলাও আমাদের লক্ষ্য ছিল। তাতে ভালই সাড়া মিলেছে।’’
মূলত কৃষকসভার এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছেছেন কৃষকসভার সর্বভারতীয় সভাপতি অশোক ধাওলে। মহারাষ্টের লংমার্চ সফল হয়েছে তাঁরই নেতৃত্বে। এখানেও তাঁরা নেতৃত্বে উত্তরকন্যার দিকে এগোবে মিছিল। তরাইয়ে এখনও খাতায় কলমে শক্তিশালী সিপিএম। তাই এ দিনের লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদী সিপিএম নেতৃত্ব। প্রথম ধাপে জনসংযোগের পরীক্ষায় পাশ করে এখন রীতিমতো উজ্জীবিত তাঁরা।
সরকারে থাকার সময় গোটা দলটাই ঢুকে গিয়েছিল কেটারিং সিস্টেমে। সে দলের সম্মেলন হোক বা সেমনার, অর্ডার দিয়ে তৈরি হতো খাবার। মেনুতেও থাকত এলাহি আয়োজন। সেই অভ্যেস থেকেই বেরোতে চাইছে সিপিএম। সিঙ্গুর লংমার্চের সময়ও একই পন্থা নিয়েছিল তারা। দু'দিনের লংমার্চের প্রথম দিনের শেষে রাত্রিবাস ছিল হাওড়ার বালিতে। হাওড়া জেলা সিপিএম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোনও বাড়ি ভাড়া করে রাখা হবে না পদযাত্রীদের। তাই বালি, বেলুড় অঞ্চলের সিপিএম কর্মীদের বাড়িতেই কোথাও তিনজন, কোথাও পাঁচজন করে রাত কাটিয়েছিলেন। সেখানেও ২০ হাজার বাড়ি থেকে দেড় লক্ষ রুটি সংগ্রহ করেছিল সিপিএম। এ বার সেই একই পথে হাঁটল উত্তরবাংলাতেও।