দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : ঠান্ডা ভাত, ডিম, দুধ , পালং শাক আর গাজর। সকালে খানিক গা ঘামানোর পর এটাই ব্রেকফাস্টের প্রতিদিনের মেনু। তারপর শুরু হয় দৌড়ে বেড়ানো। জঙ্গলের এ মাথা ও মাথা। সেই মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত। গোয়ালিয়র থেকে আসা ইস্তক এটাই রোজ নামচা সিলভির।
চোরাশিকারিদের দাপট বাড়ছে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জঙ্গলে। দিনরাত পাহারা দিয়েও পুরোপুরি রোখা যাচ্ছে না তাদের। বাধ্য হয়েই এ বার নজরদারির কাজে লাগানো হচ্ছে এই কাজে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কুকুরদের। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে কিছুদিন আগেই নিয়ে আসা হয়েছিল বেলজিয়ান শেফার্ড করিমকে। জঙ্গলের পশ্চিম দিকে নজরদারির দায়িত্ব রয়েছে তার উপর। আর খুব সম্প্রতি জঙ্গলের পূর্ব দিকে নজরদারির দায়িত্ব সামলাতে আনা হল জার্মান শেফার্ড সিলভিকে।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের আধিকারিকরা জানান, করিমের মতো সিলভিও মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডগ ট্রেনিং’ এ বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বন্য জন্তুর দেহাংশ খুঁজে বের করতে সিদ্ধহস্ত এই ট্র্যাকিং ডগ। ভৌগোলিক দিক থেকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। অসম বাঙলা ভুটান সীমান্ত ঘেঁষা এই জঙ্গলে চোরাশিকারীদের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে হরবখত। কাছেই গন্ডারের আবাসস্থল জলদাপাড়া ও গরুমারার জঙ্গল । সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় বক্সার পথেই জলদাপাড়া ও গরুমারার জঙ্গলে চোরাশিকারীদের আনাগোনা করা সহজ। তাই উদ্বিগ্ন বনকর্তারা। সিলভি আসায় তাই খুশি তাঁরা।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পূর্ব বিভাগের উপক্ষেত্র অধিকর্তা শ্রী হরিশ বলেন, “ সিলভিকে নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী। সীমান্ত ঘেঁষা এই বনাঞ্চলের নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করতেই আনা হয়েছে একে। জঙ্গলের অপরাধ দমনে এই কুকুর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে বলেই মনে করি আমরা।”
জানা গেছে, এই কুকুরের জন্য একেবারে ‘ভিভিআইপি ট্রিটমেন্ট’ এর ব্যবস্থা করেছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। রায়ডাক রেঞ্জের জঙ্গলে সিলভির জন্য তৈরি করা হয়েছে ১২ ফুট লম্বা ঘর। ১ বছর দুই মাস বয়সের সিলভির সঙ্গেই তাকে সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে দুই ফরেস্ট গার্ড বিশ্বজিত রাভা ও বিক্রম গোঁসাইকে। বিশ্বজিত বলেন , “ সকালে ঠান্ডা ভাত, ডিম,দুধ, পালংশাক আর গাজর খেয়ে কাজ শুরু করে সিলভি। দুপুর ও রাতে থাকে পাঁঠার মাংস আর ভাতের বন্দোবস্ত। বন্য জন্তুর দেহাংশ চিহ্নিত করা, চোরাশিকারীদের নানান ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র খুঁজে বের করতে ওর জুড়ি মেলা ভার। আনুগত্যের পরীক্ষাতেও ভালভাবেই উতরে গেছে সিলভি।’’