দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি : এ বার ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল ভদ্রেশ্বরের এক বাসিন্দার। মৃত অমরনাথ সাউ (৩৭) দমকলের কর্মী ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১ তারিখ থেকে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। রক্ত পরীক্ষায় এন এস ১ পজেটিভ হওয়ায় স্থানীয় ডাক্তারের কাছেই চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। কলকাতার একটি নার্সিংহোমে শুক্রবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর।
রিষড়া ফায়ার স্টেশনে কর্মরত অমরনাথবাবুর আরও ছয় সহকর্মী জ্বরে ভুগছেন বলে জানা গেছে। তাঁদেরও কয়েকজনের রক্ত পরীক্ষায় এনএসওয়ান পজিটিভ ধরা পড়েছে বলে দাবি। তারকেশ্বরের বাসিন্দা দমকল কর্মী বাবুসোনা সামন্তও কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরেক কর্মী শ্রীরামপুরের বাসিন্দা দেবায়ন পালের রক্তেও এনএসওয়ান পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তাই আতঙ্ক ছড়িয়েছে রিষড়ার দমকলকর্মীদের মধ্যে। মোট ২৮ জন কর্মী কাজ করেন রিষড়া ফায়ার স্টেশনে। কর্মীদের একাংশ জানান, পুজোর সময় লাগাতার ডিউটি থাকায় ফায়ার স্টেশনেই কাটাতে হয় তাঁদের। প্রত্যেকেরই জ্বর এসেছে এর ঠিক পরপরই।
অমরনাথবাবুর মৃত্যুর খবর আসতেই শোকের ছায়া নামে ভদ্রেশ্বরের আরবিএস রোডে। শোকে পাথর স্ত্রী জয়তী সাউ। দম্পতির পাঁচ বছরের ছেলে আরিয়ান আর দু বছরের মেয়ে অনন্যা। বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা বোঝার ক্ষমতাই নেই তাদের। দুজনকেই সামলে রেখেছেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়রা।
এ দিকে ডেঙ্গির খবর ছড়াতেই আজ সকাল থেকে দমকলকেন্দ্রের চারপাশ পরিচ্ছন্ন করে ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর কাজ শুরু করেছে রিষড়া পুরসভা। কেন এত দিনে পুরসভার টনক নড়ল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দমকলকর্মীরা। তবে রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিশ্র জানান, বরাবরই এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁরা তৎপর। তিনি বলেন, "যে কোনও মৃত্যুই দুঃখের। তবে ডেঙ্গিতে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পুরসভা সচেতন হয়েছে এ অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা সারা বছরই এলাকায় ব্লিচিং ছড়াই। মশা মারার তেলও দেওয়া হয়।"