
শেষ আপডেট: 27 August 2019 11:32
চিকিৎসকরা জানান, সাব রেটিনাল নিও ভাসকুলার মেমব্রেন (সিএনভিএম) রোগে আক্রান্ত হয়েছেন করিমুল। জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের একজন চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ জানান, এই রোগে চোখের রেটিনার ব্লাড ভেসেল ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসা না হলে এই রোগে দৃষ্টিশক্তি হারানোরও আশঙ্কা। তাঁরাই জানান, মাসে একটি করে ইঞ্জেকশন দরকার হয়। যার দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা। তিন মাস দিলেই উপকার পাওয়া যায়।
পদ্মশ্রী পাওয়ার পর থেকে আর চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করতে হয় না। বেতনের টাকাটাই সম্মান দক্ষিণা হিসেবে পান চা বাগান থেকে। আর আছে কিছু জমি জায়গা। সেই আয়ে সংসার চলে ষাট ছুঁইছুঁই করিমুলের। মাসে মাসে এত টাকা কী ভাবে জোগাড় করবেন এ সব ভেবেই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার। মৃত্যুই যাঁদের নিয়তি, সেই সব প্রত্যন্ত এলাকার অসুস্থ মানুষদের সেই ৯৫ সাল থেকে নিজের বাইক অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তাই গোটা ডুয়ার্সে তাঁর পরিচিতি। তাঁর অসুস্থ হওয়ার খবরে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। জলপাইগুড়ির মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, “”আমাদের হাসপাতালে তো প্রায়ই আসে করিমুল। কখনও তো বলেনি চোখে এমন অসুখ। আমরা সব দায়িত্ব নিতে নেব।”
মঙ্গলবার বাগডোগরা থেকে হায়দরাবাদের বিমান ধরার আগে করিমুল বললেন, “জেনে আসি ঠিক কী হয়েছে চোখে। তারপর চিকিৎসা তো হবে এ রাজ্যেই। আমার চোখ তো ভাল করতেই হবে। না হলে বাইক চালাবো কী করে?”