দ্য় ওয়াল ব্য়ুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: পাশের জেলায় সফর করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । প্রশাসনিক বৈঠকে উন্নয়নের হিসেব নিচ্ছেন, তখন জঙ্গলমহলের আরেক জেলা তেতে উঠল তাঁর দলেরই গোষ্ঠীকোন্দলে। ঝাড়গ্রামে যখন মুখ্যমন্ত্রী তখনই পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে ব্যাপক বোমাবাজির অভিযোগ উঠল।
জঙ্গলমহলে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী দলের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে সোমবার ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। ঠিক তার আগের রাত থেকেই গোষ্ঠী সংঘর্ষ চরমে উঠল নারায়ণগড়ে। বিগত দিনে নারায়ণগড় ব্লকে সূর্য অট্ট এবং মিহির চন্দের গোষ্ঠীর কোন্দল বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। জল গড়িয়েছে কালীঘাট পর্যন্ত। দলের হাইকমান্ড বারবার রাশ টানার চেষ্টা করলেও তা যে কার্যত বিশবাঁও জলে তা ফের প্রমাণ হল সোমবার।
ব্লক সভাপতি পদ থেকে মিহির চন্দকে সরিয়ে দেওয়া ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদে সূর্য অট্টকে বহাল রাখার দাবিতে রবিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতির সঙ্গে দেখা করতে আসেন প্রায় ৫০ জন তৃণমূল কর্মী সমর্থক। এ বিষয়ে কথাবার্তা চলার সময়েই তেতে ওঠে পরিস্থিতি।
সোমবার সকালে নারায়ণগড় ব্লকের ৪ নম্বর কুনারপুর এলাকার যেটাগেরিয়া গ্রামে শুরু হয় বোমাবাজি । অভিযোগের তির সূর্য অট্টের অনুগামীদের বিরুদ্ধে । জানা গিয়েছে মিহির চন্দের অনুগামী বলে পরিচিত ধীরেন হাবরের বাড়িতে পরপর তিনটি বোম মারা হয় । ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তবে সূর্য অট্টর অনুগামীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
যাঁরা অজিত মাইতির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় গোষ্ঠী কোন্দল মিটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার আর্জি জানাতেই সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তাঁরা। জেলা তৃণমূলের সভাপতি থেকে জেলার তাবড় নেতা, কেউই অবশ্য এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি।