বিবেক সিংহ, মালদা : ফুলহারের ভাঙনে আতঙ্কিত মানিকচক ব্লকের শংকরটোলা এলাকায় বাসিন্দারা। শনিবার সকাল থেকেই নতুন বাসস্থানের খোঁজে অন্যত্র সরে যেতে শুরু করেছেন তাঁরা। বাড়ির পাকা দেওয়ালের ইট ভেঙে, টিন, টালির চাল খুলে নিয়ে একের পর এক সরে যাচ্ছে ওই এলাকার বহু পরিবার। ফুলহার নদী ইতিমধ্যেই গিলে খেয়েছে দশটি বাড়ি এবং একটি শিব মন্দির। শুক্রবারের পর ভাঙন অব্যাহত শনিবারও।
শুক্রবার রাতেই পরিস্থিতি দেখতে যান মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল। শনিবার সকালে জেলার সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণবকুমার সামন্ত সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করেন। আপাতত মাটির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, দায়সারা ভাবে বাঁধ মেরামতির কাজ করলে কোন সুরাহা হবে না।
মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, নিম্নচাপের জেরে লাগাতার বৃষ্টিতে জল বেড়ে গেছে ফুলহার নদীতে। শংকরটোলা গ্রামের বাঁধের অংশে ভাঙন হয়েছে। ওই এলাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মাটির বস্তা ফেলে আপাতত বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন পরিস্থিতি তদারকি করছেন সেচ দফতরের অফিসার ও ইঞ্জিনিয়াররা।
শনিবার সকালে শংকরটোলা এলাকায় নদীর পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। যে কোনও মুহূর্তে নতুন করে ভাঙন হলে তলিয়ে যেতে পারে অসংখ্য ঘর বাড়ি । সেই পরিস্থিতির আগাম আঁচ করে এলাকার বাসিন্দারা পাকা ইটের দেওয়াল ভেঙে, টালি, টিনের ছাদ খুলে সরানোর কাজ শুরু করেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মোত্তাকিন আলম।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ‘‘যে কোনও পরিস্থিতিতে আবার বাঁধ ভাঙতে পারে। তাহলে গোটা মথুরাপুর ভেসে যাবে। শুক্রবার রাত থেকে জেগে রয়েছেন সবাই। প্রশাসন দ্রুতগতিতে বাঁধ মেরামতির কথা জানিয়েছে ঠিকই। কিন্তু দায়সারা ভাবে কাজ করলে চলবে না। বোল্ডার পিচিং করে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার করার দাবি জানিয়েছি আমরা।’’
সেচ দফতরের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল নেত্রী সাবিত্রী মিত্রও। তিনি বলেন, ‘‘এলাকার একটি শিবমন্দির তলিয়ে গিয়েছে। বাড়িও তলিয়ে গেছে। ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই। যে কাজ করা হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়।এই কাজে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। আজই মুখ্যমন্ত্রীকে সমস্ত বিষয় জানাবো।’’
সেচ দফতর সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে ফুলহার নদীতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এরপর নদীর জল কমতে থাকায় হঠাৎ করেই এই ভাঙন হয়েছে। বাঁধ সংলগ্ন নদীতে আন্ডার কারেন্ট মাটি সরিয়ে দিচ্ছে। এরফলে ধস নামছে।