দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : প্রতিবছরের মতো এ বারও বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। মাথায় লাল চুপি, কাঁধে লাল ঝোলা। ঝোলায় থাকা উপহারে যেমন চকোলেট, খেলনা, তেমনই মশারি, কম্বলও।
সান্টার বেশে ভোলাদাকে পেয়ে ঘিরে ধরল আট থেকে আশি। তারপরেই দেদার উপহার। ফি বছরই বড়দিনের সকালটা জলপাইগুড়ির পথে কেটে যায় তাঁর। কারও সান্টাদা, কারও সান্টাকাকু, কারও সান্টাদাদু হয়ে। যার যেমন প্রয়োজন, তেমনই নাকি উপহার বেরিয়ে আসে তাঁর ঝোলা থেকে। বড়রাও তাঁর কাছে ব্রাত্য নয়।
সবার ভোলাদার আসল নাম সুহৃদ মণ্ডল। ১৯৭৪ সালে যোগ দিয়েছিলেন ডাক বিভাগে। যতদিন চাকরি করেছেন ততদিন বড়দিনের আগে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে বিলি করেছেন উপহার। এখন অবসর নিয়েছেন। তাই মাসে মাসে জমিয়ে রাখা টাকাতেই কেনাকাটা সারেন বড়দিনের আগে। তারপর সকাল সকাল সান্টা সেজে বেরিয়ে পড়ার পালা।
জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দা সুহৃদ মণ্ডলের ডাক নাম ভোলা। জলপাইগুড়ি ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাবের ফুটবলার ছিলেন একসময়। বর্তমানে জলপাইগুড়ি ক্রীড়া সংস্থার সদস্য। খেলাধুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভোলাদার বেশ জনপ্রিয়তা জলপাইগুড়ি শহরে। প্রতিবছরই বিভিন্ন এলাকার শিশুরা নানা আবদার নিয়ে সান্তাদাদুর কাছে চিঠি পাঠায়। চিঠির ঠিকানা ধরে পৌঁছে যান তিনিও।
ভোলাদার কথায়, “যখন চাকরি করতাম তখনও প্রতিমাসে টাকা জমিয়ে বড়দিনে উপহার বিলি করতাম। এখন চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে জমিয়ে ডিসেম্বর মাসে একবারে ৩৬ হাজার টাকা তুলে উপহার কিনে ফেলি। সবার হাতে উপহার তুলে দিয়ে কী যে আনন্দ, বোঝাই কী করে?”