দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : ফের গরুমারা জাতীয় উদ্যান থেকে উদ্ধার হলো একটি পুরুষ গন্ডারের মৃতদেহ। এবং খড়্গ কাটা অবস্থায়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ডুয়ার্সে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার ও বন দফতরের আধিকারিকরা। দু’বছর আগেই গরুমারার জঙ্গলে মিলেছিল দু’টি গন্ডারের দেহ। দু’টি গন্ডারের খড়্গই কেটে নিয়ে গিয়েছিল চোরাশিকারীরা।
বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে হাতির পিঠে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের গরুমারা বিট এলাকার জঙ্গলে টহল দিতে বের হয়েছিলেন বনকর্মীরা। সেইসময় তাঁরা গন্ডারের দেহটি দেখতে পেয়ে আধিকারিকদের খবর দেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, খড়্গের লোভেই গন্ডারটিকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে মারা হয়েছে। জাতীয় উদ্যানেই তার ময়নাতদন্ত করা হয়।
জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানান, মেটেলি থানা এলাকায় গন্ডারের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর জলদাপাড়া ও বক্সা থেকে রানি ও করিম নামে দু’টি পুলিশ কুকুর ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তের কাজ চলছে।
বন দফতরের অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী ও ডিএফও নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে চোরাশিকারিদের চক্র রয়েছে কি না খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
২০১৭ সালের মার্চ মাসে গরুমারার জঙ্গলেই মিলেছিল দু’টি গন্ডারের দেহ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছিল মণিপুরের কুখ্যাত চোরাশিকারী লিংডং মোরাং সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। দু’টি গন্ডারেরই খড়্গ কেটে নিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। মাসখানেক পরেই পালানোর সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল একটি গাড়ির তিন আরোহীর। জখম অবস্থায় লিংডংকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তারপর তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ বারও এই গন্ডারটি চোরাশিকারীদের বলি হয়েছে কি না , এবং সে ক্ষেত্রে কারা এর সঙ্গে জড়িত সবই খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও বন দফতর।