দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: ঝাড়খণ্ডে বিজেপির হার হতেই মশানজোড় ড্যামের গায়ে নীল সাদা রঙ লাগানোর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার হুমকি দিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।
ঝাড়খণ্ডে ময়ূরাক্ষী নদীর ওপর মশানজোড় ড্যাম। তবে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও জল ছাড়ার দায়িত্ব, সবই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সিউড়ির সেচ দফতর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় ওই ড্যাম। ২০১৮ সালের অগষ্ট মাসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলার সময় ওই ড্যামের রং কেন নীল সাদা করা হচ্ছে এই প্রশ্ন তুলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ঝাড়খন্ডের বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে। এমনকি রাস্তার ওপর থাকা ওয়েলকাম গেটে বিশ্ববাংলার লোগো ও ওয়েস্টবেঙ্গল লেখার ওপর ঝাড়খণ্ডের স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। বীরভূমের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা শাসক ও সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দুমকা গিয়ে ঝাড়খণ্ড জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করলেও সমাধান সুত্র বের হয়নি। সেই থেকে বাঁধ রঙ করার কাজ অসমাপ্তই থেকে যায়।
সোমবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভার ভোটের ফল ঘোষণা হয়েছে। পরাজিত হয়েছে বিজেপি। তারপরই মশানজোড় বাঁধের রঙ নীল সাদা করার হুঁশিয়ারি দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এনআরসি ও সিএএ বিরোধী মিছিল শেষ করে সিউড়িতে অনুব্রত বলেন, “ঝাড়খণ্ডের মানুষ ওদের দূর দূর করে তাড়িয়েছে। এ বার মশানজোড় বাঁধ আবার নীল সাদা রঙে সেজে উঠবে।”
ময়ূরাক্ষী নদীর জল ধরে রাখতে ১৯৫৫ সালে কানাডা সরকারের আর্থিক সহায়তায় শুরু হয়েছিল এই বাঁধ নির্মাণের কাজ। স্থানীয়রা অনেকে একে বলে কানাডা বাঁধ। ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলায় হলেও মশানজোড় বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে জল ছাড়া সবই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দফতরের অধীনে। বীরভূম জেলার সিউড়ি শহরে সেচ দফতরের অফিস থেকে বাঁধের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কারণ, মূলত মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বর্ধমান জেলায় খারিফ ও বোরো চাষের জল সরবরাহ করার জন্যই এর জল ব্যবহার করা হয়।
মশানজোড় বাঁধের বৈদ্যুতিকরণ, সেখানে কর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ ও মেরামতের জন্য ২০১৮ সালে ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করে নবান্ন। শুরু হয় কাজ। কিন্তু রঙ নিয়ে কাজিয়ার জেরে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। অর্ধেক রঙ হয়ে এখনও পড়ে রয়েছে মশানজোড় বাঁধ।