দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: রাজনীতি নয়। জমি বিবাদের জেরেই খুন হয়েছিলেন ব্যান্ডেলের তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম। প্রায় দু মাস তদন্তের পরে আজ সকালে রহস্যের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। সাংবাদিক বৈঠক করে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর জানালেন, স্থানীয় এক প্রোমোটারের সঙ্গে একটি জমি নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছিল দিলীপ রামের। তারই জেরে সুপারি কিলার লাগিয়ে খুন করা হয় তাঁকে। ওই প্রোমোটার ফেরার। তবে গ্রেফতার করা হয়েছে তার ছেলে মঙ্গল যাদব এবং শার্প শ্যুটার মহম্মদ নাসিমকে।
গত ২৯ জুন, সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ব্যান্ডেল স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার সময় রেল লাইনের উপর গুলি করা হয় দিলীপ রামকে। মাথার পিছন দিকে গুলি লাগে তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতায় রেফার করা হয়। আনার পথে রাস্তাতেই মারা যান ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রীতু সিং এর স্বামী দিলীপ রাম। এরপরেই তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যান্ডেল জিআরপিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রীতু। এরা প্রত্যেকেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পাটনা থেকে গ্রেফতার করা হয় সঞ্জয় সিং নামে এক বিজেপি কর্মীকে। আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আরেক অভিযুক্ত অর্জুন সিং। বিজু পাসোয়ান নামে আরেক জন এখনও অধরা। ঘটনার পরেই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে তৃণমূল। চলতে থাকে রাস্তা অবরোধ, প্রতিবাদ মিছিল। ব্যান্ডেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীপশ্রী সেনগুপ্ত ও চুঁচুড়া থানার আইসি নিরুপম ঘোষকে বদলি করা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় চন্দননগর পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীকে। তার জায়গায় সিপি করা হয় হুমায়ুন কবীরকে ।
রীতু সিং এর অভিযোগ ছিল, লোকসভা ভোটের ফল বের হওয়ার দিনই বিজু ও তার দলবল দিলীপকে খুনের হুমকি দেয়। এর আগেও দিলীপের সঙ্গে কয়েকবার গণ্ডগোল হয়েছে তাদের। তারই জেরে খুন বলে বারবার পুলিশকে জানান তিনি।
তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত দিলীপকে কেন খুন করা হল, ধৃত দুই অভিযুক্তকে জেরা করে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এ দিকে রীতু সিং এর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ এটাও জানতে পারে, রেলের চাকরির পাশাপাশি জমি কেনাবেচা ও প্রোমোটিং এর কাজও করতো দিলীপ। জমি নিয়ে এলাকার এক প্রোমোটার শকুন্তলা যাদবের সঙ্গে গণ্ডগোল হয়েছিল তাঁর। পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর জানান, এরপরেই ঘুরে যায় তদন্তের অভিমুখ। শকুন্তলা পালিয়ে গেলেও গ্রেফতার করা হয় তার ছেলে মঙ্গলকে। তাকে জেরা করেই খোঁজ মেলে সুপারি কিলার মহম্মদ নাসিম ওরফে গুড্ডু ও বৈদ্যনাথ রায়ের। তিনি বলেন, ‘‘তদন্তে এটা স্পষ্ট যে দীর্ঘদিন রেইকি করে স্পট বাছাই করেছিল আততায়ীরা। দিলীপ রাম কখন ট্রেন ধরতে যান, রেল লাইন টপকে যেখান দিয়ে প্ল্যাটফর্মে ওঠেন সেখানে যে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই, এ সব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই খুনের ছক করেছিল তারা।’’
শকুন্তলার খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানান তিনি।