শেষ আপডেট: 23 December 2019 07:06
শীতের এই সময় পাহাড়ের মংপু, লাবডা, তুরুক সহ প্রায় সমস্ত জায়গায় বাগানগুলির সবুজ রঙ বদলে কমলা হয়ে যায়। নাওয়া খাওয়া ভুলে চলে খেতের ফসল বাজারে পাঠানোর তোড়জোড়। মংপুর চাষি সমনসিং প্রধান বলেন, “এ বছর ছবিটা পাল্টে গেছে অনেকটাই। কমলালেবু হয়েছিল। কিন্তু পোকার আক্রমণে ঝরে যাচ্ছে সব। পাহাড়ের তাপমাত্রা বাড়ছে। হয়তো এরই প্রভাব পড়ছে কমলালেবু চাষে।” গত দু’বছর ধরে কমলালেবু চাষে এমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি। শুধু যে ফল ঝরে যাচ্ছে তাই নয়, ফলের মাপও অনেক ছোট হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তবে স্বাদের কোনও ফারাক হয়নি বলেই তাঁর দাবি।
আরেক চাষি লিম্বা তামাং বলেন, “গত বছর ফলন কম হয়েছিল। কিন্তু এ বছর গাছে প্রচুর ফল হয়েছিল। তাই আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু ফল পাকতেই সব ঝরতে শুরু করেছে। শেষপর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, বলা যাচ্ছে না।”
পাহাড়ের এই অর্থকরী ফসলের উৎপাদনে এমন নিম্নমুখী গ্রাফ ভাবিয়ে তুলেছে চাষিদের। অনেকেই তাই মন দিচ্ছেন বিকল্প চাযে। কমলাবাগানের একপাশে আদা, দারচিনি চাষ করছেন কেউ কেউ। অনেকে আবার কফিচাষের দিকেও ঝুঁকছেন।
চাষিরা জানাচ্ছেন, রোগ পোকার আক্রমণে একেক জায়গায় একেক রকম ভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা। যদি সরকার এগিয়ে আসে তবেই হয়তো বাঁচতে পারে পাহাড়ের কমলালেবুর বাগানগুলি।
তবে হর্টিকালচার দফতরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার মহাদেব ছেত্রী বলেন, “কিছু রোগ পোকার আক্রমণ তো আছেই, কিন্তু সে সব কাটিয়েই ফলন ধরে রাখার চেষ্টা করছি আমরা। চাষিদের কাছ থেকে যা খবর পাচ্ছি তাতে সাংঘাতিক হতাশ হওয়ার কিছু নেই।”