দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাবণ পোড়ানো দেখতে গিয়ে অমৃতসরের ধোবিঘাট এলাকার রেল লাইনে বসে থাকা অগণিত মানুষকে পিষে দিয়ে গেছিল দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা ট্রেন। এই ঘটনাতেও যে হুঁশ ফেরেনি সাধারণ মানুষের তা ফের একবার প্রমাণিত হল শিয়ালদার দক্ষিণ শাখায় ক্য়ানিং লাইনের পিয়ালিতে। এ বারও দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা ট্রেন ছিন্নভিন্ন করে দিল লাইনে বসে থাকা দুই যুবককে। গরুতর জখম আরও এক।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকদের নাম প্রতীক মন্ডল (২৪) ও প্রীতম মন্ডল (২৬)। রবিবার রাতে ঘটেছে এই দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রেল লাইনের ধারেই নিয়মিত আড্ডা বসত প্রতীকদের। তাঁদের একটা বিরাট ‘গ্য়াং’ও রয়েছে। লাইনের ধারে বসেই মদ্যপান ও অন্যান্য নেশার আসরও বসত। মাঝেমধ্যে লাইনের উপর বসেও চলত আড্ডা। পুজোর ভাসানের পর গতকাল রাতেও ফের জমে উঠেছিল আড্ডা। লাইনের উপর বসেছিলেন প্রতীক, প্রীতম ও আরও একজন।
পুলিশের কথায়, যুবকরা আকণ্ঠ মদ্যপান করেছিলেন। তাঁদের পকেটে গাঁজাও পাওয়া গেছে। নেশায় এতটাই মত্ত ছিলেন তাঁরা যে ট্রেনের আওয়াজেও হুঁশ ফেরেনি। ডাউন লাইনে সে সময় দুরন্ত গতিতে ছুটে আসছিল শিয়ালদহ থেকে ক্যানিংগামী ডাউন ক্যানিং লোকাল। একজন পালিয়ে গেলেও, পালাতে পারেননি প্রতীক ও প্রীতম। ট্রেন পিষে দিয়ে যায় তাঁদের।
https://www.youtube.com/watch?v=bBnSnwTlFpo
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে আবার অন্যরকম তথ্যও। জানা গেছে, ট্রেন আসতে দেখে নাকি লাইনের উপর দিয়েই দৌড়তে শুরু করেছিলেন দুই যুবক। তাতেই ট্রেনে কাটা পড়েন তাঁরা। স্থানীয়দের অনেকে প্রতীককে ট্রেনের মুখোমুখি দৌড়তেও দেখেছেন।
প্রতীকের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও প্রথমে প্রীতমের মৃত্যুর খবর সামনে আনেনি সোনারপুর জিআরপি। রেল পুলিশ সূত্রে খবর, ট্রেনের ধাক্কার পরও প্রীতম বেঁচে ছিলেন। তাঁকে প্রথমে থমে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয় কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সোমবার সকালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ঘটনায় আরও একজনের জখম হওয়ার খবর মিলেছে। তবে তিনি পুরুষ না মহিলা সে বিষয়ে এখনও সুনিশ্চিত নয় পুলিশ। তাঁর নামও সামনে আসেনি।
পুলিশ জানিয়েছে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গতকাল রাতে ঠিক কী হয়েছিল সেটা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। যুবকরা রেল লাইনের উপরেই বসেছিলেন নাকি ট্রেনের দিকে দৌড়চ্ছিলেন সেটা জানারও চেষ্টা হচ্ছে।