দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচবিহার কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা মাজিদ আনসারি খুনে অভিযুক্ত ছ’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। খুনের ঘটনার ৯০ দিনের মধ্যেই সোমবার কোচবিহার আদালতে পুলিশ এই চার্জশিট পেশ করে।
কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বহিরাগতদের ঢুকতে বাধা দেওয়াতেই মাজিদকে খুন হতে হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তরুণ এই ছাত্রনেতাকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর গত তৃণমূল ছাত্র প্রিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের ঠিক তিন দিন আগে গত ২৫ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর অনেক খুঁজে সুদূর পুণে থেকে গ্রেফতার করা হয় মাজিদ খুনে অন্যতম তিন অভিযুক্ত সায়ান হক ওরফে লোটাস, নবাব হেদায়েতুল্লাহ ও সঞ্জিত সাহানিকে পুনের একটি পানশালা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার আগেই গ্রেফতার হয়েছিল সুরজ হোসেন ওরফে স্পিড বয়কে।
মাজিদের খুনের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল শাসক দলের ভিতর। ওই মামলাতেই এখনও জেলের ভিতর রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মুন্না। হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায় উচ্চ আদালতে। মাজিদের খুনের ঘটনার পর অভিযুক্তদের ছবি দিয়ে ফ্লেক্সে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছিল গোটা জেলা। এরপরই ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের সূত্র ধরে পুণেতে গিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মাজিদের পরেও কোচবিহারে ছাত্রনেতা খুনের ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের গোড়ার দিকেই খুন হন দিনহাটা কলেজের টিএমসিপি নেতা অলোক নিতাই দাস। চাপে পড়ে জেলা ছাত্র সংগঠনের জেলা সভাপতিকে কলকাতায় বসে বহিষ্কার করেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এমনিতে গত কয়েকমাস ধরেই গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার উত্তরবঙ্গের এই জেলার তৃণমূল। মাদার-যুব’র দ্বন্দ্ব বোমা-বন্দুকে গিয়ে ঠেকেছে। তা জানেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বও। সমঝে দেওয়ার জন্য গত ২১ জুনের নেতাজি ইন্ডোরের কোর কমিটির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “মাদারের কথা শুনে যুবকে চলতে হবে। আবার যুবদের গুরুত্ব দিয়েই মাদারকে কর্মসূচি নিতে হবে।” কিন্তু এর পরেও থামেনি কোচবিহারের তৃণমূল বনাম তৃণমূল লড়াই।
এ বার দেখার মাজিদ খুনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশের পরবর্তী পর্যায়ে কোচবিহারের রাজনীতি কোন খাতে বয়।