দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : একান্নবর্তী পরিবার। এলাকায় বেশ নামডাকও আছে। হিঙ্গলগঞ্জের সেই রায় পরিবারে ডাকাত পড়েছিল বুধবার রাতে। ডাকাতদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের তোয়াক্কা না করেই এমন প্রতিরোধ তৈরি করেন পরিবারের সদস্যরা, যে শেষমেশ লুঠপাট না করেই ফিরে যেতে হয় দুষ্কৃতীদের। তবে ডাকাতদের মারে ঘায়েল হয়েছেন রায় পরিবারের দুই বধূ সহ পাঁচজন।
বুধবার রাত একটা নাগাদ বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ বাঁকড়া চৌমাথায় নির্মল রায়ের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাতরা। বাড়ির বাইরের গেট ও বারান্দার কোলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে নির্মলবাবুর বাড়িতে ঢোকে তারা। ৬৫ বছরের নির্মলবাবুর পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী মালতী, তিন ছেলে বিদ্যুৎ, প্রদ্যোৎ, দেবদূত ও তাঁদের স্ত্রীরা।
ডাকাত পড়েছে বুঝতে পেরেই মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ায় সবাই। বাধা পেয়ে অস্ত্র হাতে ডাকাতরা তাঁদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তেই পাল্টা মারধর শুরু করে রায় পরিবারের সদস্যরা। এ সময় পিস্তলের বাঁট দিয়ে পরিবারের দুই সদস্যের মাথায় আঘাত করে তাঁদের রক্তাক্ত করে ডাকাতদল। পাল্টা মারে জখম হয় ডাকাতদের দুয়েক জনও। ততক্ষণে জেগে গিয়েছেন পড়শিরাও। এরপরেই বেগতিক বুঝে লুঠপাট শিকেয় তুলে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
খবর পেয়ে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পরিবারের আহত সদস্যদের উদ্ধার করে তাঁরাই হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে তিনজনের আঘাত গুরুতর। তাঁদের বসিরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে চাষবাস ও ব্যবসা দুইই আছে একান্নবর্তী রায় পরিবারের। নির্মলবাবুর এক ছেলে শিক্ষকতা করেন।
নির্মলবাবু জানান, “ডাকাতরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে এসেছিল। আমরা সবাই মিলে বাধা দেওয়ায় কিছু না নিয়েই ফিরতে হয় তাদের। নিছক ডাকাতির জন্য দুষ্কৃতীরা এসেছিল, না কি পুরনো শত্রুতার জের, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।”