
শেষ আপডেট: 22 June 2019 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : হয়তো ঠগ বাছতে গা উজার হবে। কিন্তু কাটমানি নিয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরে এ বার নড়েচড়ে বসতেই হল পুলিশ প্রশাসনকে। ফলশ্রুতিতে শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, টানাটানি পড়ল সরকারি আধিকারিকদের নিয়েও।
রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতে ১০০ দিন কাজের মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা তছরুপের দায়ে এক সরকারি আধিকারিককে গ্রেফতার করল রতুয়া থানার পুলিশ৷ ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে শনিবার ওই সরকারি কর্মীকে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়৷ আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত সরকারি আধিকারিক দাবি করলেন, তিনি একা নন, এই কাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছেন পঞ্চায়েতের আরও অনেকে৷ জড়িত রয়েছেন তাঁর সহকর্মীরাও।
২০১৭ সালে মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন প্রধান সুকেশ যাদব সহ কয়েকজন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে যোগসাজশ করে মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে৷ এই অভিযোগ পেয়ে রতুয়া-১ ব্লকের তৎকালীন বিডিও অর্জুন পাল প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দেন৷ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এরপরেই ওই বছরের ৬ নভেম্বর প্রধান সুকেশ যাদব ও এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রমোদকুমার সরকারের বিরুদ্ধে রতুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি৷
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সুকেশ যাদব কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন৷ কিন্তু দলবদল করেও তিনি নিজেকে বাঁচাতে পারেননি৷ ১৮ জুন, মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ মহানন্দাটোলার শ্যামগোপটোলা গ্রামের বাড়ি থেকে সুকেশ যাদবকে গ্রেফতার করে৷ এরপর গতকাল রাতে মালদা শহরের অরবিন্দ পার্ক থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রমোদকুমার সরকারকে। প্রমোদবাবু বর্তমানে মানিকচক ব্লকের চৌকি মীরদাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত৷ জানা গিয়েছে, সুকেশ যাদবের মতো তাঁর বিরুদ্ধেও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৫০৬ ও ১২০বি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে৷
রতুয়া থানার ওসি কুণালকান্তি দাস জানান, মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে রতুয়া-১ ব্লকের তৎকালীন বিডিও অর্জুন পাল যে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, তাতে সুকেশ যাদবের সঙ্গে প্রমোদবাবুরও নাম ছিল৷ তারই ভিত্তিতে গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ প্রমোদবাবু বলেন, "বিডিও সাহেব এই ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন৷ আমি অবশ্য সেই অভিযোগের কোনও কপি পাইনি৷ গতকাল রাতে পুলিশ হঠাৎ বাড়ি থেকে আমাকে গ্রেফতার করে৷ তবে এই ঘটনায় ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের আরও অনেকে জড়িত৷ তাদের মধ্যে আমার সহকর্মীরাও রয়েছেন।”