দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: বিদেশ ভূমে নয়, নিজের দেশেই আইনের গেরোয় পড়ে হয়রান কিশোর। মা বাবার কাছে ফিরতে চেয়ে দিনরাত কান্নাকাটি করেও মুক্তি মেলেনি হোম থেকে। অবশেষে সবার চোখে ধুলো দিয়ে হোম থেকে পালিয়ে আবারও পুলিশের আশ্রয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, খবর দেওয়া হয়েছে তার বাবা মাকে।
জানা গেছে, দিঘার সমুদ্র দেখার জন্য মাসখানেক আগে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল ওই কিশোর। কাঁথি থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কাঁথির কাজলা শিশুআলয় হোমে পাঠায়। সে জানায়, তার নাম গোপাল দাস, বাবার নাম তারক দাস। মা প্রীতি দাস। বাড়ি কলকাতায়। গোপালের দাবি, কোন এলাকায় তার বাড়ি তাও হোমের লোকেদের জানিয়েছে সে। কিন্তু একমাস পার হয়ে গেলেও তাকে বাড়ি ফেরানো হয়নি। ফলে সে স্কুলেও যেতে পারছে না।
বুধবার মেডিক্যাল ক্যাম্প হচ্ছিল কাঁথির ওই হোমে। তখনই সুযোগ বুঝে হোম থেকে পালায় গোপাল। কিন্তু দিঘা নন্দকুমার জাতীয় সড়কের মারিশদাতে এসে কোনদিকে যাবে বুঝতে না পেরে সেখানেই ঘুরপাক খেতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মার কাছে যাব বলে কান্নাকাটি করছিল ওই কিশোর। বাসিন্দাদের কাছে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় মারিশদা থানার পুলিশ।
থানায় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে, তাকে খাবার খাইয়ে সুস্থ করে তোলে পুলিশ। গল্পচ্ছলে তার বাবা মায়ের নাম ঠিকানা জেনে বাড়িতে খবর পাঠায়। হোম থেকে আবাসিক নিখোঁজের খবর তখনও পুলিশকে জানায়নি হোম কর্তৃপক্ষ। পুলিশের কাছে কোনও মিসিং ডায়েরিও করেনি। বরং পুলিশই বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে হোম কর্তৃপক্ষকে জানায়।
একে ওই কিশোরের নাম ঠিকানা জানা সত্ত্বেও তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে গড়িমসি, তার উপর সে হোম থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর পুলিশকে কিছু জানানো না হওয়ায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে কাঁথির কাজলা শিশুআলয় হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। হোমের সম্পাদক স্বপন পণ্ডা অবশ্য দাবি করেন, পুলিশকে জানানো হয়নি, কারণ তাঁরা নিজেরাই খোঁজাখুঁজি করছিলেন। একমাস কেটে গেলেও কেন ওই কিশোরকে তার বাড়িতে পাঠানো হয়নি, সে ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘‘ওই কিশোরকে বাড়ি ফেরানোর ব্যাপারে করনীয় কাজ সবই করা হয়েছে। বিষয়টা এখন চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির উপর নির্ভর করছে।’’
বাড়ি ফিরতে রীতিমতো উতলা হয়ে উঠলেও আদতে কবে বাবা মার কাছে যেতে পারবে গোপাল, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।