ভাঙা রাসের প্রস্তুতি শেষ, উৎসবের আনন্দ শান্তিপুরে
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : শান্তিপুরের আনাচে-কানাচে কান পাতলেই শোনা যায় নানা গল্প-কথা, কিংবদন্তী। ভাঙা রাসের শোভাযাত্রা থেকে রথযাত্রা, বাবলার সপ্তম দোল থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো। সব অনুষ্ঠানের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে আশ্চর্য সব কাহিনীর নকশাদার রঙিন
শেষ আপডেট: 21 November 2018 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া : শান্তিপুরের আনাচে-কানাচে কান পাতলেই শোনা যায় নানা গল্প-কথা, কিংবদন্তী। ভাঙা রাসের শোভাযাত্রা থেকে রথযাত্রা, বাবলার সপ্তম দোল থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো। সব অনুষ্ঠানের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে আশ্চর্য সব কাহিনীর নকশাদার রঙিন চাদর। আর ভক্তদের বিশ্বাস, এ সবই সত্যি।
শান্তিপুরের রাস উৎসবের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। তবে এই উৎসবের নাম এখানে ভাঙা রাস। কিন্তু কেন এমন নাম?
পুরাণ বলে, স্বয়ং মহাদেব ছদ্মবেশে রাসে ঢোকায় ভেঙে গিয়েছিল শ্রীকৃষ্ণের রাস। কারণ রাস উৎসবে পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর কোনও পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। ধরা পড়ে গিয়ে মহাদেব বলেছিলেন, কলিতে তিনি সমস্ত ভক্তকে রাসদর্শন করাবেন। শোনা যায়, শান্তিপুরে প্রথম রাসের সূচনা করেন অদ্বৈতাচার্য। ভক্তরা মনে করেন তিনি মহাদেবের অংশ।

শান্তিপুরের রাস নদিয়া জেলার ধর্মীয় উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম। শুধু নদিয়া জেলা নয়, জেলার বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ ভিড় জমান এই রাস উৎসবে। ইতিহাস আর কিংবদন্তী জড়িয়ে আছে রাস উৎসবের পরতে পরতে। বৈষ্ণব মতে রাস উৎসব চালু হলেও পরে শাক্ত মতও এসে মেলে। বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা হয় রাস পূর্ণিমাতে।
ভাঙা রাসের অন্যতম আকর্ষণ শোভাযাত্রা। প্রথম রাস, দ্বিতীয় রাস ও ভাঙা রাস এই ভাবেই পালিত হয় উৎসব। একদিনের জন্য রাধারাণীকে রাজা সাজিয়ে সারা শহর ঘোরানো হয়। সেই শোভাযাত্রা নিয়ে মেতে ওঠেন মানুষ।
আগামীকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে শান্তিপুরের রাস উৎসব। তারই প্রস্তুতি এখন শেষপর্যায়ে। রাস উৎসব নির্বিঘ্ন করতে ইতিমধ্যেই নানা ব্যবস্থা নিয়েছে শান্তিপুর পুরসভা। ভক্তদের ভিড় জমছে ধীরে ধীরে। রাত পোহানোর অপেক্ষা।