
শেষ আপডেট: 20 September 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কট্টর বিরোধী নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী। পরিবর্তে প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন সভাপতি করা হল সোমেন মিত্রকে। চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনের পর রাজ্যে পালা বদলের সময়ে যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ ছিলেন ‘ছোড়দা’। পরে বনিবনার অভাবে ফিরে আসেন কংগ্রেসে।
এরই পাশাপাশি অনেকটা তৃণমূল কংগ্রেসের কেতায় প্রদেশ কংগ্রেসের চার জন নতুন ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে দিলেন রাহুল। তাঁরা হলেন, শঙ্কর মালাকার, নেপাল মাহাতো, দীপা দাশমুন্সি এবং আবু হাসেম খান চৌধুরী। যদিও সূত্রের খবর, এর মধ্যে শঙ্কর মালাকার ইতিমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরে বার্তা পাঠিয়ে রেখেছেন যে তাঁকে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হলে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে দেবেন।
আবার আবু হাসেম খান চৌধুরী তথা দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ডালু বাবু তাঁরও এক কাঠি উপরে! তিনি পাকা কথা সেরে রেখেছেন তৃণমূলের সঙ্গে। লোকসভা ভোটে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট না হলে তিনি দিওয়ালির পরেই বাংলার শাসক দলে যোগ দেবেন। উপনির্বাচন ঠেকাতে শুধু কংগ্রেসে রয়ে গিয়েছেন। এ ব্যাপারে গত কয়েক মাস ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মালদহের পর্যবেক্ষক তথা পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তিনি একা নন, তাঁর ভাগ্নী তথা মালদহ উত্তরের সাংসদ মৌসম বেনজির নূরও একই ভাবে পা বাড়িয়ে রেখেছেন তৃণমূলের দিকে।
বস্তুত উনিশের ভোটের আগে প্রদেশ কংগ্রেসে একটা রদবদল অনিবার্যই ছিল। এমনকি চার বছর আগে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদের দায়িত্ব দেওয়ার পর যে অধীর চৌধুরীকে রাহুল ‘মাটির নেতা’ ও ‘লড়াকু নেতা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, তাঁকে অপসারণ করার ব্যাপারেও সম্ভাবনা দানা বাঁধছিল বিধান ভবনে। তবে এ দিনের রদবদলকে স্রেফ ‘সম্ভাব্য’ বা ‘সাদামাটা’ বলা যাবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এমনকি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতারাও ঘরোয়া আলোচনায় বুঝিয়ে দিতে চাইছেন, এ হেন পরিবর্তনের ঠিক মানেটা কী? কেউ বা রদবদলে তৃণমূলকে খুশি করার রসায়ন দেখতে পাচ্ছেন।
এমনিতে প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে অধীর চৌধুরীর ‘বন্ধু’ কম নয়। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের কোনও নেতার সঙ্গে দেখা হলেই তাঁরা অভিযোগ করেন, উনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে জানেন না। এক তরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেন। এই অভিযোগ এনে সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আবদুল মান্নানরা হালফিলে বিধান ভবনে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দল ছেড়েছিলেন মানস ভুইঞাঁ। যদিও অধীরবাবুর অনুগামীদের বক্তব্য, আবদুল মান্নান ছাড়া যে নেতারা অধীরবাবুর বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন তাঁরা সকলেই তৃণমূলের সঙ্গে আপসের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এমনকী তৃণমূলের সমর্থনে রাজ্যসভার আসন সুনিশ্চিত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হতেও তাঁদের কুন্ঠা বোধ হয় না। ফলে তাঁদের অসুবিধা হচ্ছিল তো বটেই।
তবে প্রদেশ ও সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অনেকের মতে, এ সব চাপানউতোর কোনও কারণ নয়। সম্ভবত, উনিশের ভোটে ও তার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে পাওয়ার আশাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের এ হেন রদবদল করেছেন রাহুল। কেন না রাজ্যে বিরোধী রাজনীতিতে এই নতুন প্রদেশ কংগ্রেস কতটা কার্যকরী হবে প্রথম মুহূর্ত থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, হয়তো রাহুল চান, রাজ্য কংগ্রেস যেন খামোখা বিরক্ত না করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে। তাই সোমেনবাবুকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে যাঁর মেজাজ, নিয়ন্ত্রণ বা ওজন কোনওটাই আগের মতো নেই। ইদানীং শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না। সেই কারণেই চার জনকে ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। তা ছাড়া প্রদেশ কংগ্রেসের বিভিন্ন পদে রাহুল এমন কয়েক জন নেতাকে রেখেছেন যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপারে নরম। খুবই নরম।