দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : কাঁকিনাড়ার পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেল যে এ বার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন লক্ষ্য করে দশ বারোটা বোমা ছুড়ল দুষ্কৃতীরা। বরাতজোরে বেঁচে গেলেন যাত্রীরা।
আজও সকাল আটটা থেকে কাঁকিনাড়া স্টেশনের কাছে ২৯ নম্বর রেলগেটে শুরু হয় রেল অবরোধ। দাঁড়িয়ে পড়ে ডাউন নৈহাটি লোকাল। তার ঠিক পিছনেই এসে দাঁড়ায় ডাউন শান্তিপুর লোকাল। আচমকা কিছু দুষ্কৃতী ট্রেনগুলি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়তে শুরু করে। প্রায় ১০ থেকে ১২টা বোমা পড়ে। তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকায় নেমে ছুটে পালানো সম্ভব হয়নি যাত্রীদের। তড়িঘড়ি ট্রেনের দরজা-জানলা বন্ধ করে বাঁচার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ট্রেনযাত্রী। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম হন। হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়েও আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনও জানা যায়নি।
ভয়াবহ এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বেলা সাড়ে বারোটারও পরে অবরোধ ওঠে। সাময়িক ভাবে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল।
রবিবার ছিল ভাটপাড়া বিধানসভার উপনির্বাচন। তার আগের দিন অর্থাৎ শনিবার রাত থেকে তেতে ওঠে গোটা এলাকা। তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে মুড়িমুড়কির মতো পড়তে থাকে বোমা। চলে দোকান-বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। রবিবার ভোটের দিন ধুন্ধুমার চলে গোটা এলাকায়। পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে মার খেয়ে জখম হন আধাসেনাবাহিনীর তিন জওয়ানও। সোমবারের পর মঙ্গলবারও অশান্তি কমার লক্ষ্মণ নেই। ভাটপাড়া পুরসভার সাত থেকে সতেরো নম্বর ওয়ার্ডে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা। তবুও তা ভেঙেই রাস্তায় রাস্তায় চলছে জমায়েত। পাশাপাশিই চলছে পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা।
অশান্তির আবহে স্বাভাবিক জীবন শিকেয় উঠেছে বাসিন্দাদের। তাই বীতশ্রদ্ধ তাঁরা। বাসিন্দারা জানান, সোমবারও রাতভর এলাকায় চলে দুষ্কৃতীদের দাপাদাপি। চালতা রোড, হনুমান চক, রুস্তম গুমটি, ৯ নম্বর ও ১০ নম্বর গলি, কাঁটাপুকুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িঘর ও দোকান লুঠ হয়। আগুন ও গোলাগুলির লড়াইও চলছে অবিরত। টহলরত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা নজরের আড়াল হলেই শুরু হচ্ছে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব।
এরই প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে কাঁকিনাড়া স্টেশনের অদূরে ২৯ নম্বর রেলগেটে শুরু হয় বাসিন্দাদের রেল অবরোধ। এই অবরোধ চলাকালীনই ট্রেন লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। গতকালই কাঁকিনাড়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা নামানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। অর্জুনের পুত্র পবনই এ বার ভাটপাড়া বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্রের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।