বামেরা পারেননি, মমতা করে দেখালেন, স্বাধীন কলকাতায় প্রথম সংখ্যালঘু মেয়র
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোট আসছে, তার আগে রাজনীতিতে ঝুঁকি নেওয়া কম কথা নয়। কিন্তু রাজ্য ও সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে পোড় খাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটাই করে দেখালেন। কলকাতার মেয়র পদে মনোনীত করলেন তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন নে
শেষ আপডেট: 22 November 2018 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোট আসছে, তার আগে রাজনীতিতে ঝুঁকি নেওয়া কম কথা নয়। কিন্তু রাজ্য ও সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে পোড় খাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটাই করে দেখালেন। কলকাতার মেয়র পদে মনোনীত করলেন তাঁর অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা ফিরহাদ হাকিম তথা ববিকে। যার অর্থ পরিষ্কার, স্বাধীনতার পরে এই প্রথম কলকাতার মেয়র হতে চলেছেন কোনও সংখ্যালঘু নেতা। তবে স্বাধীনতার আগে, কলকাতায় সংখ্যালঘুর মেয়রের নজির আছে। অবশ্য সেই সময়ের বাংলার জনবিন্যাস অন্য রকম ছিল।
মন্ত্রিসভা থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায় ইস্তফা দিয়েছেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। তার পর ৪৮ ঘন্টাও কাটেনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তীর্ণ সভাঘরে পুরসভার পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকে পুরমন্ত্রী ববি হাকিমকে সর্বসম্মত ভাবে নেতা নির্বাচিত করেন মমতা।
প্রশ্ন হল, এই সিদ্ধান্ত কি গত ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই নিলেন দিদি?
তৃণমূলে দিদির ঘনিষ্ঠরা অবশ্য তা মনে করছেন না। তাঁদের মতে, শোভনের বিদায় যে নিশ্চিত, সেই দেওয়াল লিখন অনেক আগেই পড়ে ফেলেছিলেন দিদি। ববির নাম হয়তো ভেবে রেখেছেন তখন থেকেই। ফলে শেষ পর্যন্ত সেই অমোঘ মুহূর্ত এসে পড়ার পর তা ঘোষণা করতে সময় নেননি নেত্রী।
বস্তুত ববিকেই যে দিদি মেয়র করতে চলেছেন তা দ্য ওয়ালে মঙ্গলবারই লেখা হয়েছিল। তৃণমূলের মধ্যেই অনেক নেতা তখন সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, এক জন সংখ্যালঘু নেতাকে মেয়র করবেন দিদি? এমনিতেই বাংলায় উগ্র হিন্দুত্বের প্রচারে নেমে পড়েছে বিজেপি। এটাও তো ভোটে অস্ত্র করবে তারা! পুরমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। বিজেপি-র বাংলার নেতারা পরের কথা, সুব্রহ্মণ্যম স্বামী পর্যন্ত তা নিয়ে হই চই জুড়ে দিয়েছিলেন। তা ছাড়া ববিকে মেয়র করা হবে আন্দাজ করে বুধবার রাত থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে গেরুয়া শিবির সমালোচনাতেও নেমে পড়েছে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মমতা ঘনিষ্ঠরা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, বাংলার মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ সংখ্যালঘু। তাঁদের জন্য এটা কত বড় বার্তা গেল আন্দাজ রয়েছে! বামেরাও সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করত। কিন্তু তাঁদের কখনওই শীর্ষ পদে বসাননি। দিদি তা করে দেখালেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, দিদি অবশ্য ভারসাম্য রাখারও চেষ্টা করেছেন। শোভন চট্টোপাধ্যায় যখন মেয়র ছিলেন তখন ডেপুটি মেয়র ছিলেন সংখ্যালঘু নেতা ইকবাল আহমেদ। ববিকে মেয়র করার পাশাপাশি এ দিন অতীন ঘোষকে ডেপুটি মেয়র করা হয়েছে। তা ছাড়া শাসক দলের এক নেতার কথায়, ববি যত বড় মুসলমান তার থেকেও বড় হিন্দু। তাঁর সভাপতিত্বে চেতলা অগ্রণীর দুর্গাপুজোয় প্রতি বছর মানুষের ঢল নামে। ওই কদিন মণ্ডপ আগলে বসে থাকেন ববি। মহালয়ার দিন দিদিকে দিয়ে মায়ের চক্ষুদান করান। ফলে বিজেপি যাই রাজনীতি করুন না কেন, সার্বিকভাবে তাঁর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এ দিন সর্বসম্মত ভাবে নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর ববি হাকিম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় গীতার শ্লোক থেকে উদ্ধৃতি তুলে আনেন। বলেন, “আমরা হলাম মমতাদির সৈনিক। যা বলবেন করব। গীতায় বলেছে, মা ফলেষু কদাচন! একদম সেটাই করব। কাজ করে যাব ফলের আশা না করে।”
ফাইল চিত্র
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিষ্যুদবারের বার বেলাতেই দূত মারফত ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভায়। গ্রহণও করে নিয়েছিলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। নভেম্বরের পড়ন্ত বিকেলে সার্দান অ্যাভিনিউয়ের আবাসনের উঠোনে সাংবাদিক সম্মেলন করে শোভন চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাই আমি পদত্যাগ করেছি।”
আরও পড়ুন....