দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গে থাকতেই গতকাল রাতে তিনসুকিয়ার ঘটনার খবর পেয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গর্জে উঠেছিলেন টুইটারে। দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিবাদে পথে নামার। শুক্রবার উত্তরবঙ্গে থেকে কলকাতায় ফিরেই ফিরেই গিরিশপার্কে কালীপুজোর উদ্বোধনে এসে অসমের ঘটনা নিয়ে ফের সরব হলেন মমতা। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গুজরাটে বিহারি খেদাও হচ্ছে। আর অসমে বাঙালি খেদাও, বিহারি খেদাও, ইউপি খেদাও হচ্ছে। সারা দেশজুড়ে একটা অশুভ সংকেত আমাদের মনকে দ্বিধাগ্রস্ত করে রেখেছে।’
অসমের বাঙালি নিধন যে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গোটা দেশ জুড়ে বিজেপির মেরুকরণের প্রচেষ্টারই পরিণতি, সে কথাও জানিয়ে দিলেন তিনি।
একই সঙ্গে মমতার গলায় উঠে এল মোদী সরকারের জিএসটি নীতি নিয়ে ব্যবসাদারদের ক্ষোভের প্রসঙ্গ। টেনে আনলেন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে বিরোধীদের হেনস্থা করার অভিযোগও।
অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ নিয়ে শুরু থেকেই সোচ্চার হয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। অসমের পরিস্থিতি জানতে প্রতিনিধি দলও পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দলকে শিলচর এয়ারপোর্টেই আটকে দেয় অসমের পুলিশ। তারপরও দিল্লিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছে এনআরসি নিয়ে তাঁর ক্ষোভ জানিয়ে এসেছিলেন মমতা। বিজেপি নেতারা পশ্চিমবঙ্গেও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি করার কথা বললেও পাল্টা হুংকার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “এখানে বাঘের বাচ্চারা বসে আছি।”
অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি থেকে বাদ পড়েছে চল্লিশ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম। অভিযোগ উঠেছে, এদের বেশির ভাগই বাঙালি। গত জুন মাস থেকে অসমে আত্মহত্যা করেছেন মোট তিনজন। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সব অংশের বাঙালির মধ্যে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের একাংশ বিদ্বেষ ছড়াতে ইন্ধন দিচ্ছেও বলেও অভিযোগ। তবে তৃণমূল যে বাংলার রাজনীতিতে বিজেপি-র বিরুদ্ধে বাঙালি আবেগকেই হাতিয়ার করে আগামী দিনে এগোবে সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে যায় এ দিন।”