দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: হাতির হামলা নতুন কিছু নয়। ছোট থেকে সেই অভিজ্ঞতার শরিক হতে হয়েছে বারবার। কিন্তু এ বারের মতো এমন বেকায়দায় আগে কখনও পড়েননি রাজগঞ্জের বিশ্বজিৎ রায়।
মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজগঞ্জের মরিঙ্গাঝোড়ায় হানা দেয় হাতির পাল। হাতির হানায় প্রচুর শস্যহানির পাশাপাশি ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাঁচটি হাতির ওই দলটি গ্রামের চারটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। এক বাসিন্দা বিষ্ণু রায় বলেন, “রাতে খস খস শব্দ শুনে উঠোনে বেরিয়ে দেখি হাতি বেড়া ভেঙে মাথা ঢুকিয়ে শুঁড় নাড়াচ্ছে। ভয়ে বাড়ির পিছন দিক দিয়ে সবাইকে নিয়ে পালাই। বাড়িটা পুরো ভেঙে দিয়েছে দাঁতালের দল।”
মাত্র আষাঢ় মাসে রাজগঞ্জের সরকার পাড়ার মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন মরিঙ্গাঝোড়ার বিশ্বজিৎ রায়। দিন কয়েক আগেই বাপের বাড়ি গিয়েছেন স্ত্রী মনিকা। গত রাতে বিশ্বজিতের বাড়ির দুটি ঘর ভেঙে দেয় হাতি। তিনি বলেন, “ওই দুটি ঘরের একটিতে নতুন বৌকে নিয়ে আমি থাকি। অপরটিতে থাকেন দাদু-দিদা। আজ সকালে ফোন করে হাতি বাড়ি ভেঙে দিয়েছে বলে জানাতেই বৌ বলে দিল এখন আর বাড়ি ফিরবে না। কী করে বৌকে মানাবো সেই চিন্তায় পড়ে গিয়েছি।”
বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত জানান, এ সময় মাঠে পাকা ধান আর ভুট্টা থাকে। তারই লোভে হানা দেয় হাতির পাল। মঙ্গলবার রাতেও বৈকন্ঠপুরের জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে ঢোকে ১০টি হাতির দল। এরমধ্যে ৫টি হাতির একটি দল প্রথমে মান্তাদারি এলাকায় ঢোকে। আর একটি দল ঢোকে মরিঙ্গাঝোড়া এলাকায়। বনকর্মীরা মান্তাদারি এলাকায় থাকায় সেখানে বেশি ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি হাতির পাল। কিন্তু মরিঙ্গাঝোড়ায় তছনছ করে দেয় অন্য হাতির পালটি। তিনি বলেন, “ আমরা এই হামলা আটকাতে পারিনি। তবে আজই সব নতুন করে বানিয়ে দিচ্ছি।”