নিপা আতঙ্কে পচে গিয়েছে হাজার হাজার পেটি ফল, বন্ধের মুখে হিমঘর
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: একদিকে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। অন্য দিকে, আপেলে মোমের প্রলেপ। আতঙ্কের এই জোড়া ফলায় ধস নেমেছিল ফলের বাজারে। সাবধান হতে ফল খাওয়াই বন্ধ করে দেন ক্রেতাদের একটা বড় অংশ। ফলে হাজার হাজার পেটি আপেল লেবু পচে নষ্ট হয়ে গেছে ইতি
শেষ আপডেট: 21 August 2018 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: একদিকে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। অন্য দিকে, আপেলে মোমের প্রলেপ। আতঙ্কের এই জোড়া ফলায় ধস নেমেছিল ফলের বাজারে। সাবধান হতে ফল খাওয়াই বন্ধ করে দেন ক্রেতাদের একটা বড় অংশ। ফলে হাজার হাজার পেটি আপেল লেবু পচে নষ্ট হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। প্রতিদিন সেই অবিক্রিত পচা ফল ফেলে দিতে হচ্ছে। আরও যা মজুত আছে তাও নষ্ট হতে বসেছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ক্ষতির মুখে জেলার বহুমুখী হিমঘর।
শ্রীরামপুরের বড় বেলুতে বছর পাঁচেক আগে তৈরি করা হয়েছিল বহুমুখী হিমঘর ’সূর্যদীপ’। এটি রাজ্যের প্রথম বহুমুখী হিমঘর যেখানে অত্যাধুনিক ফোর জিরো ফোর মেশিন ব্যবহার করা হয়। এবং ফিয়ন গ্যাসের মাধ্যমে ফল ও আনাজ সংরক্ষণ করা হয়। অত্যাধুনিক হিমঘর। তাই রাজ্য তো বটেই, ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরাও আনাজ ও ফল সংরক্ষণের জন্য এই হিমঘরে পাঠান। মূল লক্ষ সময়ের ফল অফ সিজনে বিক্রি করে আরও বেশি লাভ তোলা।

চলতি বছরে মে জুন মাসেও আপেল ও লেবু মজুত করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। হিমঘর মালিক অশোক কোলে নিজেও ফল মজুত রাখেন। কিন্তু এ বার তাঁদের পথে বসিয়েছে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। বাদুড়ে খাওয়া ফলে এই মারণ রোগ ছড়ায় এমন সম্ভাবনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই ধস নামে ফলের বাজারে। সাবধান হতেই ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন সাধারণ মানুষ।

পরবর্তীতে আপেল তাজা দেখাতে তাতে মোমের প্রলেপ সামনে আসার পরে আরও মার খায় ফলের বাজার। হিমঘরে সাধারণত তিন মাস এই ফল সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এই দুই আতঙ্কে সময়ের মধ্যে বিক্রি না হওয়ায় পচতে শুরু করে ফল। ফলের পাশাপাশি অনেক বিট গাজরও মজুত রয়েছে এই হিমঘরে। তাও অবিক্রিত। নতুন করে আর কেউ ফলও মজুত করছেন না বলে জানিয়েছে এই হিমঘর কর্তৃপক্ষ। ফলে বিদ্যুতের বিল মেটাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। অশোকবাবু বলেন, ’’ মাসে ১১ লক্ষ টাকা বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। অথচ সমস্ত ফল পচে গিয়েছে। এ ভাবে চললে বন্ধ করে দিতে হবে এই বহুমুখী হিমঘর।’’
এই হিমঘরটি তৈরির পর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শতাধিক লোকের কর্ম সংস্থান হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই হিমঘরই লোকসানের ঠেলায় বন্ধের মুখে।