ঝাড়গ্রামে মিছিল করলেন জয়া, পাশে সেই হিটলিস্টে থাকা রাতুল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর ক’দিন পরেই ২৮ অগস্ট। মেয়ো রোডে গান্ধী মুর্তির পাদদেশে টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলদের শীর্ষ নেতৃত্ব। এর মধ্যেই নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন সদ
শেষ আপডেট: 17 August 2018 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর ক’দিন পরেই ২৮ অগস্ট। মেয়ো রোডে গান্ধী মুর্তির পাদদেশে টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলদের শীর্ষ নেতৃত্ব। এর মধ্যেই নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন সদ্য টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতির পদ হারানো জয়া দত্ত।
এ দিন ২৮ অগস্ট কলকাতায় টিএমসিপি’র সমাবেশ নিয়ে প্রচার মিছিল হয় ঝাড়্গ্রামে। সংগঠনের ঝাড়্গ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন জয়া।
প্রসঙ্গত, কলেজে কলেজে ‘ভর্তি সিন্ডিকেট’ নিয়ে দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের দিকে আঙুল উঠতেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে জয়া দত্তকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ ঠা অগস্ট তৃণমূল ভবনের প্রস্তুতি বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা জয়ার নামও মুখে আনেননি। প্রথমে মনে করা হয়েছিল ২৮ অগস্টের আগেই ছাত্র সংগঠনের মাথায় নতুন সভাপতি বসাতে পারে তৃণমূল। কিন্তু পরে স্পষ্ট হয় শাসক দলের সাংগঠনিক পরিকল্পনা। এক্ষুনি তাঁরা টিএমসিপি-র সভাপতি পদে কাউকে বসাবেন না। ভাল করে দেখে নিয়েই ওই পদ পূরণ করবে তৃণমূল ভবন। এই প্রথম তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ হতে চলেছে সভাপতিহীন। কিন্তু শুক্রবার ঝাড়গ্রামে জয়ার মিছিল নতুন জল্পনা তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মিছিল শেষে ঝাড়গ্রামের পাঁচ মাথা মোড়ে দাঁড়িয়ে গরম গরম বক্তৃতাও দেন শিক্ষামন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এই ছাত্রনেত্রী। মিছিলে উপস্থিত কয়েকশো ছাত্র-ছত্রীর সামনে জয়া বলেন, “ আপনারা ভাববেন না আমরা ভয় পেয়েছি। নেত্রী যদি একবার নির্দেশ দেন, ওরা চোখ রাঙালে আপনারাও চোখ রাঙাবেন। ওরা একটা লাঠি তুললে আপনারা দশটা লাঠি তুলবেন।” সেই সঙ্গে জয়ার ঘোষণা, “ঝাড়্গ্রাম জেলায় কোনও বিরোধী সংগঠন থাকবে না।” এ দিন জয়ার মিছিলে জমায়েত করার জন্য ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। যদিও জয়া সেসব উড়িয়ে দিয়েছেন।জয়া একা নন, শুক্রবারের মিছিলে জয়ার পাশে দেখা গেল ভর্তি দুর্নীতি কাণ্ডে অভিযুক্ত শিয়ালদহ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের প্রাক্তন ছাত্রনেতা রাতুল ঘোষকে। ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন রাতুল ছিল হিট লিস্টে। অভিযোগ, অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর থেকে মার্কশিট নিয়ে ভর্তি করিয়ে দেবে বলে টাকা নিয়েছিল টিএমসিপির এই ছাত্র নেতা। পুলিশ খোঁজাখুঁজিও শুরু করেছিল। কিন্তু রাতুলকে ধরতে পারেনি লাল বাজার। রাতুলের বাবা সেই সময় বলেছিলেন, তাঁর ছেলে চক্রান্তের স্বীকার। টিএমসিপি-র একটা অংশই তাঁর ছেলেকে ফাঁসাতে চায়। শুক্রবার সেই রাতুলকেই দেখা গেল ঝাড়গ্রামের মিছিলে।
[caption id="attachment_28184" align="alignleft" width="165"]

সেই রাতুল ঘোষ[/caption]
প্রঙ্গত, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট ঝাড়গ্রাম জেলায় তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। উনিশের ভোটের আগে সেই ক্ষতয় প্রলেপ দিতে ২১ জুনের বর্ধিত কোর কমিটির বৈঠক থেকে নিজেই ঝাড়গ্রাম জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মমতা। দিন কয়েক আগেই বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঝাড়গ্রামে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে গিয়ে বক্তৃতার শেষে বলেছিলেন, “ভুল হলে বলুন। শুধরে নেব। আমাদের ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নেত্রীর দায়িত্বে থাকা জেলায় গিয়ে জয়া দত্ত মিছিল করছে আর তিনি সেটা জানেন না এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আর না জানিয়ে সেখানে গিয়ে মিছিল করার সাহস জয়ার মতো কালকের নেত্রী দেখাবে বলেও মনে করেন না কেউই। তাহলে কি ভুল শুধরে নেওয়ার বার্তা দিয়েই রেখে দেওয়া হচ্ছে তাঁকে? ২৮ অগস্ট নিয়ে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে শুক্রবার প্রশ্ন করা হলে তিনি সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছেন। সূত্রের খবর এ দিন ঝাড়গ্রামের ছাত্র মিছিলে যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি যাননি। যাননি অনেক দায়িত্বে থাকা ছাত্র নেতাও। তাঁদের সাফ কথা জয়ার পরিচয় কী তা নিয়ে তাঁদের ধোঁয়াশা রয়েছে। তাই তাঁরা জয়ার মিছিলে যাননি। ঠিক কী হতে চলেছে, তা স্পষ্ট হবে ২৮ অগস্ট দুপুরেই।