দ্য ওয়াল ব্যুরো : বদলে যাচ্ছে রঙ। লাল–সবুজের বদলে এ বার নীল-সবুজ। সে লাটাগুড়িই হোক, বা গরুমারা, অথবা ঝাড়গ্রাম। জঙ্গলের পথে যেতে যেতে বন দফতরের যে সব সাইনবোর্ড, প্ল্যাকার্ড, হোর্ডিং এতদিন নজরে আসতো, তা লাল-সবুজে দেখতেই অভ্যস্থ ছিল চোখ। এ বার থেকে সেই রঙ বদলে হচ্ছে নীল-সবুজ। খুব দ্রুত এই রঙ বদলের কাজ শেষ করার জন্য দফতর থেকে বিভিন্ন বনাঞ্চলের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের সমস্ত বনাঞ্চলে বিট অফিস থেকে শুরু করে রেঞ্জ অফিস, ডিভিশন অফিস থেকে সার্কেল অফিস ও রাস্তার ধারে থাকা বন দফতরের সমস্ত বোর্ডের রঙ অতি দ্রুত পাল্টে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে থাকা বোর্ডগুলির রঙ বদলে ফেলতে হবে সাতদিনের মধ্যে। বাকি বোর্ডগুলির রঙও ১৫ দিনের মধ্যে পাল্টানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের। তাই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। পাশাপাশি কেন এই রঙ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। মুখ্যমন্ত্রীর অপছন্দের তালিকায় লাল আর পছন্দের তালিকায় নীল রঙ রয়েছে বলেই কি?
তবে বিষয়টিকে এ ভাবে দেখতে নারাজ বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। তিনি বললেন. “যুগের পর যুগ একই জিনিস চলবে তার তো কোনও মানে নেই। বদল তো আসতেই পারে। আর লাল রঙ বিপদের প্রতীক। জঙ্গল তো ভালবাসার জিনিস। কাজেই এখানে লাল না থাকাই কাম্য। এ সব ভেবেই বন দফতরের সমস্ত সাইনবোর্ডের রঙ বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক জানান, কেন এই রঙ বদলের সিদ্ধান্ত, তার কোনও ব্যাখ্যা তাঁর জানা নেই। কেনই বা এতদিন লাল ও সবুজ এই দুটি রঙ ব্যবহার করা হতো, তাও জানা নেই। তবে অনেকে বলেন লাল আইনের প্রতীক। আর সবুজ জঙ্গলের। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সবুজ গাছের প্রতীক আর লাল রঙ মাটির। তাঁর কথায়, “নীল রঙকে জলের প্রতীক মনে করা যেতে পারে। লাল সবুজের জায়গায় নীল সবুজ সে ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক নয়।”
তবে নাম না প্রকাশের শর্তে, অনেক টাকা খরচ করে এই রঙ বদলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বনকর্মীদের একাংশ। তাঁদের একাংশ আবার শাসকদলেরই সমর্থক।