সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ইলিশ মাছের নাম শুনেছিলেন। খেতেও যে দারুণ সুস্বাদু, তাও জানতেন। একবার কলকাতায় আসার পরে সে প্রসঙ্গ উঠতে, জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইলিশ মাছ খাবেন? প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তারপর অবশ্য বললেন, "খেলে মন্দ হয় না।" বাজপেয়ীজিকে খাওয়াবো বলে নিয়ে এলাম ভাল ইলিশ মাছ।
কিন্তু ততক্ষণে কী ভাবে যেন জেনে ফেলেছেন, সুস্বাদু হলে কী হবে, এ মাছে বেজায় কাঁটা। তাই ইলিশের দু তিন রকম পদ সাজিয়ে নিয়ে যেতেই আমতা আমতা করছেন। হাবেভাবেই বুঝে গেলাম সমস্যাটা। বললাম, দাঁড়ান আমি কাঁটা বেছে দিচ্ছি। আপনি একবার খেয়ে দেখুন।ওনার পাশে বসে অভ্যস্ত হাতে কাঁটা বেছে দিলাম ইলিশের। খেলেন । কী পরিতৃপ্তি যে দেখেছিলাম বলার কথা নয়। বহুদিন আগের সে ছবি মনে পড়ছে আজ। ওই মাপের একজন ব্যক্তিত্ব। এত সহজ সরলও হওয়া যায়।
এখানে এলে চপ আর মুড়িরও খোঁজ করতেন। খুব বেশি কথা তো বলতেন না। দু এক বারেই বুঝে গিয়েছিলাম তাঁর এই চপ-মুড়ি প্রীতির কথা। বিকেলে কোনও বৈঠকে সংগঠন নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনা চলছে। চপ মুড়ি এলেই ছুড়ে দিতেন টুকরো রসিকতা। হালকা হয়ে যেত পরিবেশ।
এমন ভাবেই তাঁকে পেয়েছি। কত অন্তরঙ্গ সময় কাটিয়েছি এই বিরাট মানুষটার সান্নিধ্যে। ১৭-১৮ বছর বয়স থেকেই আমি আরএসএসের প্রচারে বেরোতাম। তারপরে জনসঙ্ঘের। কিছুদিন জনতা দল করেছি। তারপর ভারতীয় জনতা পার্টি। আমারও এখন অনেক বয়স। শরীর আর ভাল থাকে না। পুরোনো সব কথা মনে পড়ে না ভাল। অটলজিকে ঘিরে কত গল্প, কত স্মৃতি হারিয়ে গেছে। এত উদার, এত রঙিন, এত পাণ্ডিত্যের সমাবেশ। আমার স্মৃতির যেটুকু এখনও তিনি জুড়ে আছেন তার কৃতিত্ব তো তাঁরই।
লেখক পরিচিতি: বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন আরএসএস ও জনসঙ্ঘের সঙ্গে।হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা ৯২ বছরের এই প্রবীণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর।