
শেষ আপডেট: 15 August 2018 09:02
মাঝে আর মাত্র একটা দিন। তারপরেই ঢাকে কাঠি পড়বে। শুক্রবার ভোরে শুরু হবে পুজো। তার আগে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে রাজবাড়িতে। পুজো চলবে তিন দিন। কিন্তু পুজো উপলক্ষে রাজবাড়ির প্রাঙ্গনে বসা মেলা চলবে পাঁচদিন। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষের ঢল নামবে রাজবাড়ির প্রাঙ্গনে। চলবে বিষহরির পালা গান। এখন পরিবারের উত্তরাধিকারী প্রণত বসু। তাঁর তত্ত্বাবধানেই চলছে পুজোর প্রস্তুতি।
মন্দিরের কূল পুরোহিত শিবু ঘোষাল জানান, জল-জঙ্গলে ঘেরা উত্তরবঙ্গে সাপের দাপট বরাবরের। সেই ভয় কাটাতেই হয়তো মনসা পুজোর রীতি রাজপরিবারে। সেটাই চলে আসছে বরাবর। দুর্গা পুজো হয় প্রথা মাফিক। তারআগেই জাঁকজমক করে হয় মনসা পুজো। প্রতি বছর রথের দিন হয় কাঠামো পুজো। তারপর মাটি পড়ে তাতে। প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় প্রতিমার।
পুজোর তিন দিন দেবীর ভোগের তালিকাটাও নজরকাড়া। কূল পুরোহিত জানালেন, প্রথম দিন প্রথা মেনেই উৎসর্গ করা হয় পোলাও, ৫ রকম ভাজা, লাবড়া তরকারি, বলির পাঁঠার মেটে ভাজা, ৫ রকম মাছ ( রুই, কাতলা, ইলিশ, পাবদা, চিংড়ি) খেজুর ও আমসত্ত্বের চাটনি সঙ্গে ঘিয়ে ভাজা লুচি, পায়েস ও ৫ রকমের মিষ্টি। দ্বিতীয় দিনে এই তালিকায় যোগ হয় ফ্রায়েড রাইস। আর তৃতীয় দিনে সাদা ভাত।
তিনদিনের পুজো শেষে রাত বারোটার পর রাজবাড়ির নাটমন্দিরের পাশে পদ্মপুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। তবে মেলা চলে এরপরেও আরও দুদিন। এ বারও মেলায় বিষহরির পালাগান গাইতে আসবেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নামী পালাগানের শিল্পীরা।
