
শেষ আপডেট: 9 August 2018 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, মনোনয়ন পেশ করার সময় হলফনামার ফর্মে ১ এর খ-এ স্পষ্ট লিখে দিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারী মামলা নেই। তারপর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ড্যাং ড্যাং করে জিতে গিয়েছিলেন কোচবিহারের টাকাগাছ-রাজারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি মীর মহিরুদ্দিন।
চুপচাপ চলছিল সব। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাপারটা জানাজানি হতেই বুধবার কেউ বা কারা জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে ফ্লেক্স, ব্যানার খাটিয়ে মহিরুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি জুড়ে দিল তারস্বরে। তারাও তৃণমূলের কর্মী সমর্থক বলেই দাবি।
সম্প্রতি কোচবিহার কলেজের ছাত্র পরিষদ নেতা মজিদ আনসারি খুন হন। কলেজ থেকে ফেরার সময় তাঁকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনা নিয়ে এমনিতেই উত্তাল ছিল কোচবিহার। তৃণমূল ছাত্রনেতাকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যে মুন্না খান নামে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে কোচবিহার শহরে তাদের ছবি দিয়ে ফ্লেক্স-ব্যানার লাগিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা।
বুধবার বিকেলে সেই একই কায়দায় পোস্টার পড়ে মহিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে। কেন তাকে গ্রেফতার করা হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় পুলিশের কাছে।
গত বছরের ১৫ ই জুলাই নিজের বাড়ির সামনেই গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন মাংস বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম। পুন্ডিবাড়ি থানায় খুনের মামলা দায়ের হয়। ( মামলার নম্বর - ১১৮ /১৭ , তারিখ - ১৫/০৭/২০১৭ )। ভারতীয় দ্ণ্ডবিধির ৩০২, ১২০বি ও অস্ত্র আইনেও মামলা চলছে। আরও অনেকের সঙ্গে এই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযোগ রয়েছে মীর মহিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে। কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি তাঁকে। কারণ তখন থেকেই নাকি বেপাত্তা ছিলেন মহিরুদ্দিন। অথচ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই এলাকায় ফিরে ভোটে প্রার্থী হন মহিরুদ্দিন।অভিযোগ, প্রার্থী হওয়ার সময় যে হলফনামা দিতে হয় সেখানেই মিথ্যে তথ্য দিয়ে মীর মহিরুদ্দিন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলাই নেই।
এখানেই উঠেছে প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে খুনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মনোনয়ন জমা দিলেন কী করে? মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার পর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীও হলেন। কিন্তু দল বা প্রশাসন কারও নজরেই বিষয়টি এল না। এও কি সম্ভব ? বিষয়টি নিয়ে তোলপার শুরু হওয়ায় এখন কোচবিহারের জেলাশাসক কৌশিক সাহা বলছেন, “ভোটে দাঁড়ানোর জন্য কেউ যদি মিথ্যে হলফনামা জমা দেন তবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে আইনে।”
কোচবিহারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে বলেন, “পোস্টারের সত্যতা নিয়ে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার আইসি সমীর পালকে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি।”কোতয়ালি থানার আইসি সমীর পাল জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশ আসার পরেই বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা। অভিযুক্তকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।
https://www.youtube.com/watch?v=iKyXSmSWAvQ