দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং : পথে নামল পাহাড়ও। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শুক্রবার গর্জে উঠল দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিক। সেই প্রতিবাদের সুরেই মিশে রইল নিজেদের জাতিসত্তা রক্ষার দাবিও।
মিছিলে উঠে আসা মূল দাবিই ছিল, ১৯৯০ সালে বাতিল হওয়া ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ফের চালু করতে হবে পাহাড়ে। কারণ আইএলপি চালু থাকলে সেই ভূখণ্ডে নাগরিকত্ব আইন লাগু করার কোনও প্রশ্ন থাকবে না। বিনয় তামাং বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে চালু থাকা ইনার লাইন পারমিট ১৯৯০ সালে বাতিল করা হয়। এখন উত্তর সিকিমের বহু এলাকায় আইএলপি লাগু আছে। পাহাড়েও আবার আইএলপি চালু হোক, এটাই আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি।”
একই সঙ্গে গোর্খাদের ভারতের আদি বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ওঠে জনসভায়। বিনয় তামাঙের কথায়, “নেপাল থেকে আসা নয়, গোর্খাদের ভারত ভূখন্ডেরই আদি বাসিন্দা বলে ঘোষণা করতে হবে। আমরা চাই এনআরসি লাগু হওয়ার আগেই ফের আইএলপি চালু হোক। গোর্খাদের অরিজিনাল ইনহ্যাবিট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া বলে ঘোষণা করা হোক। এরজন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা চিঠি লিখব।”

মোর্চা দাবি করেছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা শরনার্থীদের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় জায়গা দেওয়া যাবে না। এই সম্পর্কেও কথা দিতে হবে সরকারকে।
নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (বিনয়পন্থী) ডাকে শুক্রবার মিছিল ও জনসভা হল দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকে। সব জায়গাতেই মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অরাজনৈতিক বহু মানুষ ও পাহাড়ের বুদ্ধিজীবীরাও সামিল ছিলেন মিছিলে। বিনয় তামাং জানান, সামনেই বড়দিনের মরসুম। তাই দাবি আদায়ে আপাতত আন্দোলনে যাচ্ছেন না তাঁরা। জানুয়ারি মাস থেকে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সে জোরদার আন্দোলন শুরু করবে মোর্চা। তার আগে দাবি সম্পর্কে সচেতন করা হবে পাহাড়ের মানুষকে।