দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসের মধ্য মেয়াদে আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার রদবদল করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেই বদলের সমীকরণে তৃণমূলে অভিষেক অনুগামীদের গুরুত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধির ইঙ্গিতটাই স্পষ্ট।
কী রকম?
রাজ্য মন্ত্রিসভায় নতুন চারটি মুখ আনতে চলেছে মমতা। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজভবনে শপথ নেবেন তাঁরা। এঁরা হলেন, প্রবীণ বিধায়ক ও বর্তমানে বিধানসভার উপ মুখ্য সচেতক তাপস রায়, সুজিত বসু, রত্না ঘোষ এবং নির্মল মাঝি। এর মধ্যে সুজিত বসু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলেই তৃণমূলে পরিচিত। একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অভিষেকের অন্যতম ভরসার পাত্র হলেন সুজিত। দলীয় সূত্রে খবর, যুব তৃণমূল সভাপতির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেন চাকদহের বিধায়ক রত্না ঘোষ।
অন্যদিকে তাপস রায়কে মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়ার বিধানসভায় উপ মুখ্য সচেতকের পদ শূণ্য হচ্ছে। যা কিনা প্রতি মন্ত্রীর সমতুল মর্যাদার সাংবিধানিক পদ। অভিষেক ঘনিষ্ঠ তালড্যাংরার বিধায়ক সমীর চক্রবর্তীকে সেই পদের দায়িত্ব দিতে চলেছেন দিদি। বাঁকুড়ার সাংগঠনিক বিষয়আশয়ের ব্যাপারে সমীর চক্রবর্তী তথা বুয়া চক্রবর্তীর উপর এখন অনেকটাই ভরসা করেন দিদি ও অভিষেক।
সুজিত বসু ছিলেন বিধানসভার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি। তিনি মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর অভিষেক অনুগামী নেতা তথা উত্তর ২৪ পরগণার যুব তৃণমূল সভাপতি পার্থ ভৌমিককে সেই পদের দায়িত্ব দিতে চলেছেন মমতা। বুধবার বিকেলে পার্থকে ফোন করে তা জানিয়ে দিয়েছেন দিদি।
তৃণমূলে একদা দিদির পরেই তিন মূর্তির গুরুত্ব ছিল,-মুকুল রায়,পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সীর। মুকুলবাবু দল ছেড়েছেন। সুব্রত বক্সী এখনও দলের রাজ্য সভাপতি এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায় মহা সচিব। তৃণমূলের নেতারাই বলেন, কোনও অজ্ঞাত কারণ এই দু’জনেরই এখন গা ছাড়া ভাব। সুব্রতবাবু তো দলের অনেক সতীর্থকে জানিয়েছেন লোকসভা ভোটে আর প্রার্থী হওয়ারই ইচ্ছা নেই তাঁর। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতায় দিদি ঘনিষ্ঠ তিন নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিমের মধ্যে প্রথম জন ইতিমধ্যে প্রায় রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার পথে! এ হেন পরিস্থিতিতে অভিষেক ঘনিষ্ঠদের গুরুত্ব ও মর্যাদা যে তৃণমূলে ক্রমশ বাড়ছে তা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। এর আগে অভিষেক অনুগামী তৃণমূল নেতা শান্তনু সেনকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত করেছে তৃণমূল। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মানস ভুইঞাঁও অভিষেক অনুগামী বলে পরিচিত।
যদিও প্রকাশ্যে দলের নম্বর টু নিয়ে দিদি প্রকাশ্যে এখনও কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শুভেন্দু অধিকারী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমদের নিয়ে যৌথ নেতৃত্বের কথাই বলেন। শুভেন্দু ও ফিরহাদ হাকিমের ইদানীং সংগঠন ও সরকারে যে গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে তাও স্পষ্ট। তবে পাশাপাশি অভিষেক ঘনিষ্ঠদের গুরুত্ব বাড়ার ছবিটাও ক্রমশ যে প্রকট হচ্ছে তা আর বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না।