দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক মাস হয়ে গেল তিনি অজ্ঞাতবাসে। আত্মগোপনে। বাংলার গোয়েন্দা দফতর অর্থাৎ সিআইডি তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, তাঁর স্বামীকে এর মধ্যে গ্রেফতারও করেছে। নিত্য নতুন মামলা ঠুকছে। কিন্তু হদিস পায়নি তাঁর অবস্থানের। এবং তিনি মাঝে মাঝেই তাঁর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ এনেছেন সেই গোপন জায়গা থেকে। মাধ্যম, অডিও বার্তা।
এই সপ্তাহান্তেই নতুন একটি অডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতী ঘোষ। সেই অডিও বার্তায় ভারতী দেবীর অভিযোগ, তিনি যাতে মুখ খুলতে না পারেন, কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখতে না পারেন, তাই একটার পর একটা মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে তাঁর উপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বেশ কিছু দিন ধরেই, বস্তুত এ বছরের গোড়ায় ভারতী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃপাদৃষ্টি হারানো ইস্তক বাতাসে গুঞ্জন যে ভারতী ঘোষ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। মাস ছয়েক আগে দলের ন্যাশনাল সেক্রেটারি রাহুল সিনহা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, "তৃণমূল এক জন ব্যক্তিকে যথাসম্ভব কাজে লাগিয়ে কাজ ফুরোলে তাঁকে ছুড়ে ফেলে দেয়। ভারতী দেবী সেটা বুঝতে পারছেন। তিনি আমাদের দলে আসতে চাইলে দরজা খোলা।" এই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতী দেবীর শেষ অডিও বার্তা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
ভারতীর এই মন্তব্যের পটভূমিকা শুক্রবার দায়ের হওয়া মামলা, যেখানে অভিযোগ যে তাঁর সম্পত্তি তাঁর উপার্জনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। রাজ্যের গোয়েন্দা কর্তাদের বক্তব্য, তাঁর সম্পত্তি তাঁর ঘোষিত উপার্জনের ৩২০ শতাংশ বেশি বলে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। মিথ্যে মামলা ও পেছনে লাগার যে অভিসন্ধির কথা ভারতী বলেছেন, তা তাঁরা অস্বীকার করেছেন।
এই মামলাটির আগে ফেব্রুয়ারিতে সিআইডি ভারতীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে এক সোনা-ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে। দাসপুর থানায় করা সেই অভিযোগ মোতাবেক, সেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ভারতী জোর করে টাকা আদায় করেছেন। সেই একই মামলায় ভারতীর স্বামী এম এ ভি রাজুকেও সপ্তাহ দুয়েক আগে গ্রেফতার করেছে সি আই ডি।