
শেষ আপডেট: 4 September 2022 02:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: অবশেষে ধরা পড়ল ঘুমপাড়ানি চোর ও তার সরদার (thieves)। গৃহস্থকে ঘুম পাড়িয়ে চুরি করার ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল জলপাইগুড়ি জেলা (Jalpaiguri) পুলিশ। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় মোট দু'জনকে গ্রেফতার করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। তাদের কাছ উদ্ধার হয়েছে ঘুমের বড়ি, ডিপ্রেশনের ওষুধ এবং কিছু গুঁড়ো ও কেমিক্যাল জাতীয় জিনিসপত্র।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের জুন মাসে। একদিন রাতে ময়নাগুড়ি থানার জোড়পাকড়ি এলাকার বাসিন্দা মৃদুল অধিকারী ও তাঁর বাড়ির সদস্যরা রাতের খাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন বেলা গড়িয়ে গেলেও ঘুম থেকে কেউই ওঠেননি। পরে প্রতিবেশীরা এসে দেখেন বাড়ির দরজা খোলা। ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে আলমারি, রান্নাঘর সব তছনছ হয়ে রয়েছে। আর বাড়ির সকলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এরপর তড়িঘড়ি তাঁদের সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে জানা যায়, তাঁদের বাড়ি থেকে নগদ প্রায় ২ লক্ষ টাকা, ল্যাপটপ, সোনার গয়না চুরি গেছে। বাড়ির সবাই খানিল সুস্থ হওয়ার পরই ময়নাগুড়ি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। কয়েকদিন আগে নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে জোড় পাকড়ি এলাকা থেকে তপন রায় নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে আদালতে তুলে হেফাজতে নেয়। জেরা করতেই উঠে আসে আরও একজনের নাম। ময়নাগুড়ি দক্ষিণ মৌয়ামারি এলাকা থেকে এরপর পুলিশের জালে ধরা পড়ে সোনা মহম্মদ নামে এক কবিরাজও।
জানা গেছে, এই কবিরাজের কাছ থেকেই ক্লোনাজিপাম জাতীয় ডিপ্রেশনের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ সহ নানা ধরনের ডাস্ট পাউডার উদ্ধার করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন জায়গায় এই একই কায়দায় চুরি করার কথা জেরায় স্বীকার করেছে তারা।
খাবার দিতে দেরি হওয়ায় বৌমাকে ধারালো অস্ত্রের কোপ মারল শ্বশুর! ময়নাগুড়িতে হুলস্থূল
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে সোনা মহম্মদ একজন ওঝা। সে বিভিন্ন বাড়িতে যেত সংসারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের অছিলায়। তারপর গৃহস্থদের হাতে প্যাকেট করে ওষুধের গুঁড়ো কিংবা গুলি দিয়ে বলত, রান্নাঘরে হলুদ কিংবা লবনের পাত্রে সেগুলো ভালভাবে মিশিয়ে রাখতে এবং তারপর শেখ নুন বা হলুদ দিয়ে রাতে রান্না করে খেতে। তারপর চলত নজরদারির পালা বাড়ির লোকেরা রান্না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেই জানলা কিংবা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে চুরি করে পালাত দু'জন।
এই ঘটনায় জলপাইগুড়ি জেলার পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজের মাধ্যমে জানান, তপন রায়কে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁরা সোনা মহম্মদকে গ্রেফতার করেছেন। এই সোনা মহম্মদই প্রধান মাথা। সেই ওঝার বেশে এইসব দুষ্কর্ম করে বেরাতো। এর কাছ থেকেই সমস্ত ওষুধ, গুঁড়ো উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত নিজের দোষও স্বীকার করেছে।