দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার অর্থাৎ ২ মার্চ নেতাজি ইনডোরে পুর নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভায় ঢোকার জন্য বার-কোড যুক্ত কার্ড গিয়েছে জেলায় জেলায়। ওই কার্ড দেখিয়েই ঢুকতে হবে ইনডোরে দিদির সভায়। কিন্তু এই কার্ড নিয়েই গোল বেঁধেছে জলপাইগুড়িতে। রাজগঞ্জ ও ময়নাগুড়ির দুই বিধায়ক খগেশ্বর রায় ও অনন্তদেব অধিকারীর নামে কার্ড গেলেও কার্ড পাননি তাঁর অনুগামীরা। এমনকি প্রশান্ত কিশোরের দফতর থেকে যে তালিকা গেছে জেলায় তাতেও নাম নেই দুই বিধায়কের। এই ঘটনায় শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল জলপাইগুড়িতে। যা নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে হল রাজ্যের মন্ত্রী তথা জলপাইগুড়ি জেলার পর্যবেক্ষক অরূপ রায়কে।
দুই বিধায়কের অভিযোগ, জেলাসভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী তাঁদের সঙ্গে কথা না বলেই এই তালিকা পাঠিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোরের অফিসে। এক তরফা ভাবে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। শুধু তাই নয়, জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন দুই বিধায়ক। তাই নিয়ে আবার রবিবার সকাল থেকে দুই বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে জয়হিন্দ বাহিনীর লোকজন। সব মিলিয়ে পুরভোটের আগে ভিতরকার কোন্দলে জেরবার জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল।
ক’দিন আগেই দেখা গিয়েছিল শিলিগুড়িতে মন্ত্রী গৌতম দেবের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূলকর্মীরা। দাবি এক কাউন্সিলরকেফের টিকিট দিতে হবে। জলপাইগুড়িতেও বিধায়কের বাড়ির সামনে হাঙ্গামা চালালো দলীয় কর্মীরাই। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগেই যদি এই কাণ্ড হয়, তাহলে ফল কী হবে বোঝাই যাচ্ছে।
দুই বিধায়ক পদত্যাগের কথা বললেও খগেশ্বর রায় জানান, তিনি আপাতত পদত্যাগ করছেন না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “অরূপ বিশ্বাস আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন ৩ মার্চ জলপাইগুড়ি এসে আমাদের সঙ্গে বসবেন। তারপর আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবব।” যদিও অনন্তদেব অধিকারী এখনও পদত্যাগের ব্যাপারে অনড়।
জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।