
শেষ আপডেট: 6 June 2023 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ডান চোখ থেকে জল গাল বেয়ে চিবুকে পড়ছে। ফোঁটা হয়ে সেটাই এসে পড়ছে পরনের নাইটিতে। সেই জল মুছিয়ে দেওয়ারও কেউ নেই। ডান হাত জড়িয়ে ধরে রয়েছে পাশে শুয়ে থাকা বাবার ডান হাত। আর বাঁ হাত বাবার ক্ষতবিক্ষত শরীরে স্নেহের স্পর্শে খুঁজে বেড়াচ্ছে নিরাপত্তা।
কাজের সন্ধানে শুক্রবার করমণ্ডল এক্সপ্রেসে চেপে ভিন রাজ্যে রওনা দিয়েছিলেন বাসন্তীর ছড়ানেখালির ভাস্কর অধিকারী। বাড়িতে ছিল দুই নাবালিকা মেয়ে। বড় মেয়ে বর্ষা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তার বোন দীপান্বিতা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। শুক্রবার রাতেই ফোন পেয়েছিল বর্ষা। হিন্দিতে কেউ বলেছিল, ‘তুমহারা পিতাকো অ্যাক্সিডেন্ট হো গয়া’। এরপরেই পরিচিত কণ্ঠস্বর যা চিনতে ভুল করেনি বর্ষা। শুনতে পায় ফোনের ও প্রান্ত থেকে তার বাবা বলছে, ‘আমি আর বাঁচব না।’
মা অনেকদিন আগে ছেড়ে চলে গেছে। শখ আহ্লাদ, সহায় সম্বল সব কিছু বাবা। তার এমন দুর্ঘটনার খবর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে জেঠুদের খবর দেয়। গাড়ি নিয়ে বালেশ্বর থেকে ভাস্কর অধিকারীকে নিয়ে আসে পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশী। কলকাতায় এনআরএস হাসপাতালে এনে শনিবার ভর্তি করা হয়। আহত ভাস্কর অধিকারীর দাদা জানান, তিন দিন এনআরএস হাসপাতালে রাখলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হচ্ছিল না। তাই বাড়িতে নিয়ে এসে চিকিৎসা করছেন। তিনি বলেন, “কোনও সরকারি সাহায্য মেলেনি। ভাইকে বাড়িতে নিয়ে আসার আগে সরকারি আধিকারিক এসেছিলেন। তারপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। ভাইকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্যের প্রয়োজন।”
ইটের দেওয়ালে প্লাস্টার এখনও লাগেনি, মেঝেও কোনওরকমে তৈরি করা। সেখানেই মাথায়, হাতে ব্যান্ডেজ , পায়ে প্লাস্টার নিয়ে শুয়ে রয়েছেন ভাস্কর অধিকারী। কথা বলার ক্ষমতাও নেই। ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রয়েছেন। এর মধ্যেই মেয়েরা এসে পাশে বসছে। বাড়ির রান্না সহ সব কাজই তাদের করতে হয়। একটা টেবিল ফ্যান চললেও বাবার পাশে বসে কখনও হাতপাখা দিয়ে বাতাসও করছে বর্ষা। পাড়া প্রতিবেশীরাই চাঁদা তুলে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্ষার কাতর আবেদন, “আমাদের কেউ নেই। একমাত্র বাবা-ই ভরসা। বিছানায় শয্যাশায়ী। দয়া করে আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। আমার বাবাকে বাঁচান।”
তরুণের পরিণতি দেখে বাইরে কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন ময়নাগুড়ির পরিযায়ী শ্রমিকরা