দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজেদের দলে সামিল করানোর জোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে। সেই দল বদলে শুক্রবার 'কার্যকরি' দু'জনকে গেরুয়া পতাকা ধরালেন দিলীপ ঘোষ।
একজন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক স্বদেশরঞ্জন নায়েক এবং দুই মালদার গাজলের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুশীল চন্দ্র রায়। দুই বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই দিলীপ ঘোষের দাবি, ওই দুই এলাকায় তৃণমূলের পা কেঁপে যাবে।
স্বদেশবাবু দীর্ঘদিনের সিপিএম নেতা। শঙ্করপুরে বাড়ি তাঁর। ২০০৬ সালে তৃণমূলের সমরেশ দাসকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী কালে সমরেশ দাস এগারার বিধায়ক হন। গত মাসেই সমরেশবাবু করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। যদিও ২০১১ সালে তৃণমূলের অখিল গিরির কাছে পরাজিত হন স্বদেশরঞ্জন নায়েক। জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, দিঘা, শঙ্করপুর-সহ সমগ্র রামনগর এলাকাতেই স্বদেশরঞ্জনের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তা ছাড়া তাঁর পিছনে লোকজনও রয়েছে বলে দাবি অনেকের।
সিপিএম সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন স্বদেশরঞ্জন নায়েক। মূলত বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুরের সিপিএম জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি ও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর তরফে জেলার দায়িত্বে থাকা রবীন দেবের সঙ্গে সংঘাতেই পার্টি ছাড়ার বিষয়ে মনস্থির করে নেন তিনি। শেষমেশ এদিন যোগ দিলেন বিজেপিতে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের নিরিখেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা একুশের ভোটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই জেলায় প্রাক্তন এক সিপিএম বিধায়কের বিজেপিতে যোগ দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁরা।
অন্যদিকে গাজলের প্রাক্তন বিধায়ক সুশীল চন্দ্র রায় ২০১১ তে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। এবং সেই জয় ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সব ভোটে গাজল ছিল কাস্তে হাতুড়ি তারার দখলে। '১১-র ভোটে কংগ্রেস জেতে ওই আসন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন সুশীলবাবু। যদিও সে সময়ে কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিয়েছে তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, গাজল বিধানসভা কেন্দ্রটি আবার মালদা উত্তর লোকসভার মধ্যে পড়ে। সেখানকার সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মু। খগেনবাবুও সিপিএমের নেতা ছিলেন। জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর দাপুটে নেতা ও হাবিবপুরের দু'বারের বিধায়ক ছিলেন। অনেকের মতে, খগেনবাবুর দৌলতেই সুশীল রায় বিজেপিতে যোগ দিলেন।
এমনিতে তৃণমূলও ভোটের অঙ্ক কষে দলে যোগদান করানোর ধারাবাহিক কর্মসূচি নিচ্ছে। বিরোধীদের বক্তব্য, এলাকায় সৎ বলে পরিচিত বহু প্রাক্তন বাম এমএলএ-এর কাছেও প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজমেন্ট টিম। অধিকাংশ জায়গাতেই প্রত্যাখ্যাত হতে হচ্ছে বলে খবর। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, তৃণমূল এখনও তেমন কোনও কার্যকরি মুখকে সামিল করতে পারেনি। সেই তুলনায় বিজেপি খানিকটা এগিয়েই গেল এদিন।