দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: প্রকাণ্ড একটি তিমি ভেসে উঠল মন্দারমণির সমুদ্র সৈকতে। সোমবার সাতসকালে স্থানীয় মানুষ এবং মৎস্যজীবীরা দেখতে পান বালিতে পড়ে রয়েছে একটি তিমি মাছ। মৃত অবস্থাতে অনেক দূর থেকে তিমিটি ভেসে এসেছে বলে অনুমান স্থানীয়দের।
তিমিটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে তিমিটির গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জাহাজ বা ট্রলারে ধাক্কা লেগেই তিমিটির মৃত্যু হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা। তিমিটি লম্বায় অন্তত ৩৫ ফুট। চওড়াও প্রায় ১০ ফুটের মতো। মুখের গোল অংশের উচ্চতা প্রায় পাঁচ ফুট। প্রকাণ্ড এই তিমি উদ্ধারের খবর পেয়ে তা দেখতে সমুদ্র তীরে ভিড় জমান আশপাশের গ্রামের লোকজন। উদ্ধার হওয়া তিমিটির ওজন দেড় টন বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।
প্রাথমিক ভাবে দিঘার জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণত খাদ্যাভাবে ওপরের দিকে উঠে আসে তিমিগুলি। সমুদ্র এখন অনেকটাই দূষণমুক্ত। ট্রলার, জাহাজ প্রভৃতি তেমন চলছে না। গভীর সমুদ্রে ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণও তাদের তীরে দিকে তলে আসার অন্যতম কারণ। প্রাণীবিদরা প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন এটি হাম্পব্যাক প্রজাতির তিমি। খানিকটা ব্যাঙাচির মতো দেখতে। কবে লম্বায় ৩৫ ফুট। গলাটিই ১০ ফুট। এমন ধরনের তিমি এর আগে দেখা যায়নি এই উপকূলে। ২০১২ সালে দিঘা মোহনার সৈকতে মৃত নীল তিমি এসে ঠেকেছিল। সেটি জুওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার দিঘা শাখা তার কঙ্কাল সংরক্ষণ করেছে। এটিও সংরক্ষণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তার আগে ১৯৯৬ সালেও একটি বড় মাপের তিমি উঠেছিল মন্দারমণিতে।
দিঘা সায়েন্স সেন্টারের পক্ষে বলা হচ্ছে সমুদ্রে প্লেট কম্পনের কারণে এটি উঠে আসতে পারে। মূলত প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে এই ধরনের তিমি দেখা যায়। সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, গভীর সমুদ্রে অ্যাকোয়াটিক সাউন্ড চেঞ্জ হয়। ইদানীং প্লেট স্লিপ সাউন্ড অর্থাৎ অত্যধিক কম্পনের কারণে এই বৃহদাকার তিমি চলে আসে অগভীর সমুদ্রে। সেখানে উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে খাবারের অভাবে বা অগভীর সমুদ্রের চড়ায় ধাক্কা খেয়ে মারা যেতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের মতে, ময়নাতদন্ত থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন তা হল, কত দিন আগে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। কারণ, প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হয়নি অনেক দিন আগে তিমিটি মারা গিয়েছে। বিশেষ পচনও ধরেনি দেহে।