দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: ১০০ দিনের কাজে কোটি কোটি টাকা তছরুপ সহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হলেও পুলিশ তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না। সেই তিনিই ছুরির আঘাতে জখম হয়ে গত মাসেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন দিনহাটা হাসপাতালের আইসিসিইউতে। তখনও তাঁকে দেখতে পায়নি পুলিশ। এ বার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর পাশে পাশে হাঁটলেন তিনি। তাই এ বারও আর তাঁকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হল না পুলিশের।
আজ সকালেই গুলিবিদ্ধ হন দিনহাটার গীতালদহের হরিরহাট প্রাথমিক স্কুলের দুই শিক্ষক সহ তিনজন। তাঁরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের কর্মী। তাই মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দিনহাটা হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাঁদের দেখতে। গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলেও। সব জায়গাতেই মন্ত্রীর পাশে দেখা গিয়েছে দিনহাটার আটিয়াবাড়ির প্রাক্তন উপপ্রধান তৃণমূলের নেতা আব্দুল মান্নান ওরফে মান্যেকে। এরপরেই মুখে মুখে ঘুরছে প্রশ্ন, প্রকাশ্যে ঘুরলেও কেন মান্যেকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ? এতগুলি মামলায় অভিযুক্ত হয়েও কী ভাবে মন্ত্রীর পাশে ঘুরছেন তিনি?
দিনহাটার আটিয়াবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০০ দিনের কাজের জব কার্ডের কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান মান্যে। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রাখা সহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এত সবের পরেও পুলিশের চোখে ফেরার এই নেতা ১৯ নভেম্বর হাতে ছুরির আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন দিনহাটা হাসপাতালে। এতটাই সাবধানে যে কাকপক্ষীও যাতে টের না পায়। পুলিশ টের না পেলেও দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি সে খবর শুনে হাসপাতালের সিসিইউতে ঢুকতেই স্বমূর্তি ধরেছিলেন নেতা।
দেখে নিন সেই ভিডিও
https://www.youtube.com/watch?time_continue=27&v=OVc5sTwaDhc
হাতে লাগানো স্যালাইন ও অন্য যন্ত্রপাতি টেনে সরিয়ে উঠে বসে হুমকি দিতে শুরু করেন তিনি। এতসব ঘটনায় ঘুম ভাঙলে তাড়াতাড়ি পাহারা বসায় পুলিশ। কিন্তু তা জানতে পেরেই ভোর হওয়ার আগেই হাসপাতাল থেকে বেপাত্তা হয়ে যান মান্যে।
দিনহাটার এসডিপিও উমেশ জি খান্ডেবল বলেছিলেন, “তাঁকে চিনে ফেলা হয়েছে এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করবে বুঝতে পেরেই অভিযুক্ত পালিয়ে যান।” জেলার পুলিশ সুপার ডাক্তার ভোলানাথ পাণ্ডে, ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও কী ভাবে তাঁদের হেফাজত থেকে তিনি পালালেন তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে তাঁকে খুঁজে বের করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তা যে কেবল কথার কথা আজ মন্ত্রীর পাশে বেড়িয়ে তা প্রমাণ করে দিলেন মান্যে।