দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েদিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনা এখন অনেক নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছিলেন কারা দফতরের ডিজি। বন্দির কাছে মোবাইল ফোন মিললেই সাজা বেড়ে যাবে তিন বছর। খুব দ্রুত রাজ্য এমন আইন আনতে চলেছে বলে মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে গিয়ে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন অরুণকুমার গুপ্তা। এরপর পেরোতে পারেনি কয়েক ঘণ্টা সময়। রাত আটটা নাগাদই আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে তল্লাশি করে স্মার্টফোনের হদিশ পেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
ছ’নম্বর এফ এফ সেলে এ দিন রাতে তল্লাশি চালান নিরাপত্তা রক্ষীরা। এই সেলেই কুখ্যাত গোপাল তিওয়ারির ঠিকানা। তাঁর কাছে থেকেই স্মার্টফোনটি উদ্ধার করেন রক্ষীরা। দিন কয়েক আগেও একবার তল্লাশি চালানোর সময় আরও কয়েকজন বন্দির সঙ্গে গোপাল তিওয়ারির কাছ থেকেও স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছিল।
গত ৩১শে অগস্ট মোবাইল ফোন মিলেছিল আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের আরেক ’হাইপ্রোফাইল’ বন্দি আফতাব আনসারির কাছে। জেলে তিন নম্বর সেলে রয়েছে আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনায় ধৃত আফতাব আনসারি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁর সেলে হানা দিয়েছিলেন জেলের কর্মী আধিকারিকরা। মিলেছিল দু’টি দামী স্মার্টফোন ও ৩০টি সিমকার্ড। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয়েছিল লালবাজারের গোয়েন্দা দফতরকে। আদালতের নির্দেশে শুধুমাত্র কলম ও কিছু কাগজ রাখার অনুমতি রয়েছে আফতাব আনসারির। কী করে ওই মোবাইল ও সিমকার্ড তাঁর কাছে পৌঁছাল তার তদন্তে শর্ষের মধ্যেই যে ভূত স্পষ্ট হয়েছিল তা। এমনকি ব্যাগে করে বেশ কিছু মোবাইল ফোন নিয়ে জেলে ঢোকার সময় ধরা পড়েছিলেন আলিপুর জেলের ডাক্তার অমিতাভ চৌধুরী।
শুধুমাত্র আলিপুর জেল নয়, প্রেসিডেন্সি জেল সহ রাজ্যের অন্য জেলেও বিভিন্ন সময় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক বন্দির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে স্মার্টফোন। মোবাইল ফোনের সাহায্যে জেলে বসেই অপরাধের সাম্রাজ্য জিইয়ে রাখার এই চেষ্টায় কার্যত ঘুম ছুটেছে প্রশাসনের। কারণ জেলের এক শ্রেণির কর্মী আধিকারিকের মদতেই যে এমনটা বারবার ঘটছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং কারা দফতরের ডিজি। এই প্রবণতা বন্ধে রাজ্য সরকার দ্রুত কঠোর আইন আনার পথে বলেও জানান তিনি ।
মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সংশোধনাগার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ’’জেলেতো সব ভালও লোক থাকে না। কিছুতো হয়ই। মোবাইল ফোন এখন অনেকটাই রোখা গেছে। আরও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধানসভায় নতুন আইন পাশ হয়েছে। এখন রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য গিয়েছে। কোনও বন্দির কাছে মোবাইল ফোন মিললেই তাকে অতিরিক্ত তিন বছর সাজা খাটতে হবে। জেলের যে কর্মী বন্দির কাছে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেবে কড়া শাস্তি হবে তারও। ’’
কিন্তু ডিজির এই বক্তব্যের পরেই ফের আলিপুর জেলে বন্দির কাছ থেকে মোবাইল ফোন মেলায় উদ্বেগ বেড়েছে কারাকর্তাদের।