দ্য় ওয়াল ব্য়ুরো: রবিবার সাতসকালে ভোটের লাইনে সামিল হয়ে বিধাননগরের মেয়র সব্য়সাচী দত্তর নাম শুনে তাঁকে চিনতেই পারলেন না বারাসত কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পরে অবশ্য় সামলে নিলেন দ্রুত। বললেন, নাম বললে তো হবে না, পরিচয়ও বলতে হবে। কারণ এক নামে অনেকেই আছেন।
এ দিন মধ্য়মগ্রামে ভোট দিলেন এই কেন্দ্রের ভোটার কাকলি। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই বারাসতের বিদায়ী সাংসদ তথা এ বারের প্রার্থী অভিযোগ করলেন, শনিবার রাতভর বিভিন্ন এলাকায় টাকা বিলি করেছেন বিজেপির নেতারা। এরপরেই উপস্থিত সাংবাদিকরা সব্য়সাচী দত্তের নাম করতেই বিরক্ত হয়ে বলে ফেললেন, ‘‘হু ইজ হি ? আমি জানি না।’’ তারপরেই অবশ্য সামলে নিলেন নিজেকে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে কাকলি বলেন, ‘‘কার কথা বলছেন? বলতে হবে তো। রাজারহাটে আর বি ওয়ান পঞ্চায়েতে মুনিয়া আছে। ওর নামও সব্যসাচী দত্ত। খুব খাটছে। কার কথা বলছেন বলতে হবে তো।’’
সাংবাদিক ফের প্রশ্ন সংশোধন করে বলেন মেয়র সব্যসাচী দত্ত! তখন কাকলি বলেন, ‘‘হ্যাঁ, পরিচয়টা বলতে হবে তো। ও দমদমে খাটছে। আমি শুনেছি।’’
বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কাজিয়া নতুন নয়। এর আগেও বহুবার তাঁদের সংঘাত চরমে উঠেছে। । বিরোধীদের অভিযোগ, এর পিছনে অন্য অনেক কারণ রয়েছে। দলের কোর কমিটির বৈঠকে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অতীতে বলতে শোনা গিয়েছে, "এই কাকলি আর সব্যসাচী, তোমরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া থামিয়ে নাও। আমি কিন্তু স্পষ্ট বলে দিচ্ছি। এ সব করা চলবে না।" দিদির কথায় দু'জনেই ঘাড় নাড়লেও, ফিরে এসে যেই কে সেই। ভোটের বাজারেও সেই সংঘাত গোপন থাকল না। সব্যসাচীর নাম শুনতেই সেই তাচ্ছিল্যই গোপন করতে পারলেন না কাকলি।
অনেকেরই অভিযোগ রাজারহাট, নিউটাউন, গোপালপুর এলাকায় সিণ্ডিকেট নিয়েই লড়াই। দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে মাঝে মাঝে বোমা, গুলিও চলে যায়। কয়েক মাস আগে বিজেপি নেতা মুকুল রায় সব্যসাচী দত্তর বাড়ি গিয়ে লুচি আলুরদম খাওয়ার পর সব্যসাচীর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বাড়ে। ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা সুজিত বসুর ক্লাব শ্রীভূমি স্পোর্টিং-এ বৈঠক হয় সব্যসাচীকে নিয়ে। সাময়িক মিটলেও গোটা লোকসভা ভোটের প্রচারে সব্যসাচী কার্যত 'নিরুদ্দেশ' ছিলেন। অনেকের মতে, কাকলি যে টিপ্পনি কেটেছেন তা অবশ্য স্পষ্ট।
https://www.youtube.com/watch?v=C2SSrEa6ZBg&feature=youtu.be