দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই গুলির আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় জয়নগর থানার নারায়ণীতলার চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দাদের। ঘুম চোখে তড়িঘড়ি সবাই বাইরে বেরিয়ে এসে জানতে পারেন প্রতিবেশী শুভঙ্কর রায় চৌধুরীর (৩৮) বাড়ি থেকে ওই আওয়াজ মিলেছে। বাড়ির মধ্যে ঢুকে তারা দেখতে পান শুভঙ্কর এবং তাঁর দুই পোষ্যর রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে মেঝেতে। পাশে পড়ে আছে তাঁদের বাড়ির বৈধ দোনলা বন্দুকটি।
দেনার দায়ে মানসিক অবসাদেই দুই পোষ্য কুকুরকে গুলি করে মেরে বন্দুকের গুলিতে শুভঙ্করবাবু আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
প্রতিবেশীরা বলেন, “গুলির আওয়াজ পেয়ে ছুটে গিয়ে আমরা দেখি, শুভঙ্করের দেহ পড়ে রয়েছে। ওঁর কুকুর দুটি রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছে। তাঁর স্ত্রী জানান, তিনিও গুলির আওয়াজ পেয়ে দোতলা থেকে নেমে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বামীকে পড়ে থাকতে দেখেন।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জয়নগর থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে শুভঙ্কর রায় চৌধুরী পেশায় অটোচালক। তাঁর বাবার নামে একটি লাইসেন্সি বন্দুক দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাড়িতে রয়েছে। সম্প্রতি শুভঙ্কর দেনার দায়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এরউপর সময়ে কিস্তির টাকা শোধ না করায় গতকালই অর্থলগ্নি সংস্থা তাঁর অটোটি বাজেয়াপ্ত করে। এই ঘটনায় মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন তিনি।
তাঁর তিন বছরের এক শিশু কন্যা আছে। পরিবারে মা-বোন-স্ত্রী-কন্যা তাঁর আয়ের উপরেই নির্ভরশীল। সম্প্রতি প্রচুর দেনা হয়ে গিয়েছিল বাজারে। তারউপর জীবনধারণের একমাত্র উপায় অটোটিও অর্থলগ্নি সংস্থা তুলে নেওয়ায় অবসাদে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে পরিবার সূত্রে খবর। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। যে বন্ধুকের মাধ্যমে শুভঙ্কর রায় চৌধুরী তাঁর দুই পোষ্যকে মেরে, আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান, সেই বন্দুকটির লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র খতিয়ে দেখছে জয়নগর থানার পুলিশ।